১৮ই মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৬:৪৬

অপরাধ

416263419_347938048071492_1740417586349010334_n

সিলেটের ওসমানী নগরের ভেরুখলা গ্রামের আনহার মিয়া। স্থানীয়ভাবে ঠিকাদারি করলেও এখন তিনি ওসমানী নগরের মূর্তিমান আতঙ্ক। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন তিনি। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে ভেরুখলা গ্রামের সাধারণ মানুষ। অবৈধ অস্ত্র দিয়ে সাধারণ মানুষকে ফাঁসানো। থানা পুলিশের যোগসাজশে গ্রামে একপক্ষের সঙ্গে অন্য পক্ষের বিরোধ সৃষ্টি করে মালার নামে কমিশন বাণিজ্য, সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে অন্যায়-উৎপীড়ণ,জুলুম,অন্যের জায়গা-জমি দখল করে করে ওসমানী নগরের গোয়ালা বাজার ইউনিয়নে ত্র্যাশের রাজত্ব কায়েম করছে আনহার মিয়া। তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না পুলিশ। ফলে ভয়ে আতঙ্কে নীরবে আনহারের সব অন্যায় অত্যাচার সহ্য করছে ভুক্তভোগীরা। ভূক্তোভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় প্রতিনিধি ও থানায় বারবার অভিযোগ করেও তারা কোনো সুফল পাচ্ছেন না। থানা পুলিশ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে সখ্যতা থাকায় তার আনহারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। কেউ আনহারের অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই নিজের সংগ্রহে থাকা অবৈধ অস্ত্র দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়। আনহারের বাড়িতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালালে অনেক অবৈধ অস্ত্র পাওয়া যাবে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। ভুক্তভোগীরা জানান, অস্ত্র দিয়ে সাধারণ মানুষকে ফাঁসানো হলেও পুলিশ তদন্ত করে দেখছে না অস্ত্রগুলো কোথা থেকে আসছে। তারা বলেছেন, আনহারের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যা চেষ্টাসহ ৭/৮টি মামলা ও বেশ কিছু জিডি রয়েছে। থানা আওয়ামী লীগ নেতদের ছত্রছায়ায় থাকায় পুলিশ কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয় না। জানা গেছে, সম্প্রতি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভেরুখলা গ্রামের সুদুমিয়ার ছেলে শান্তকে রাস্তায় ফেলে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। আনহার মিয়া স্থানীয় নেতাদের নিয়ে শান্তর পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিষয়টি দামা-চাপা দিয়ে ফেলে। অভিযোগ রয়েছে, আনহার মিয়া ঠিকাদারের সুবাদে বেশ কিছু শ্রমিককে দিয়ে নিজের একটি বাহিনী করেছে। কারও সাথে কিছু হলেই বা কোনো বিষয় নিয়ে তর্ক হলেই সেই বাহিনী দিয়ে বাড়িতে হামলা ভাঙচুর চালায় আনহার গংরা। স্থানীয় ভুক্তভোগী আব্দুল ছালিক অভিযোগ করে বলেন, আমি একজন প্রবাসী আমাদের গ্রামের মসজিদ তথা ভেরুখলা জামে মসজিদ তৈরির কাজের জন্য গ্রামে গিয়েছিলাম। আমার কাছ থেকে মসজিদ তৈরির জন্য আনহার মিয়া মোটা অঙ্কের টাকা নেয় কিন্তু মসজিদ কবে তৈরি করবে এই বিষয়ে বিস্তারিত শুক্রবার জুম্মার নামাজ পরে আলাপ করার জন্য মুরুব্বিয়ান ব্যক্তিদেরকে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করে আনহার। একপযায়ে আমার উপর হামলা করে আনহার ও তার ভাইয়েরা। আরেক ভুক্তভোগী মৃত ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে ফজলু মিয়াকে আনহার মিয়া গং আনুমানিক ৫ থেকে ৬ বছর পূর্বে হত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে আক্রমন করিলে ফজলু মিয়া প্রান বাচানোর জন্য বাড়ির দিকে চুটে আসলে পিছনে আনহার মিয়া দাড়ালো চাপাতি এবং দেশিয় অস্ত্র দিয়ে ফজলু মিয়ার বসত-ঘরে আক্রমণ চালায় উক্ত হামলার শিকার এবং একপর্যায়ে ফজলু মিয়া নিজ ঘরে হার্ট এটাক করে মারা যায়। স্থানিয় কতিপয় নেতাদের প্রভাব বিস্থার এবং উক্ত নেতাদের বাধা বিপত্তির কারনে আইনি সহায়তা থেকে বঞ্জিত হয়ে বিনা পুস্ট মার্ডামে কবর দিতে হয়। পরবর্তিতে ফজলু মিয়ার পরিবার যাতে থানা ও কোর্টে গিয়ে মামলা করতে না পারে এজন্য মৃত ফজলু মিয়ার ছোট ভাই উস্তার মিয়াকে মিথ্যা অস্ত্র মামলা দিয়ে জেলে ঢুকিয়ে দেয় আনহার মিয়া। যাতে ফজলু মিয়ার মৃত্যুর আসল রহস্য বা কারন উদঘাটন না হয়। উক্ত আনহার মিয়ার অস্ত্রের উৎস আজ অবদি থানা খোজ করে নাই। আমাদের কাছ থেকে জমির ফসল নেয়ার জন্য আমাদেরকে হুমকি দেয়। ধানের মৌসুমে আমাদের কে ক্ষেতে না যাওয়ার জন্য তার ভাইদেরকে দিয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আনহার গং। ওই এলাকার মুরুব্বি আব্দুল হান্নান নামে বৃদ্ধ বলেন, আনহার মিয়া তার চাচাতো ভাইদের দিয়ে হুমকি দিয়েছে, আমি যাতে আমার ফসলি জমিতে হালচাষ না করি। আমি প্রতিবাদ জানালে, তিন তিন বার আমার উপর আনহার মিয়া তার বাহিনী দিয়ে হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় জিডি করলে আনহার মিয়া বলে এইসব করে লাভ নেই থানা আর পুলিশ আমার কেনা, আমার কথায় উট-বস করে পুলিশ। আমি এখনও সুষ্ঠু বিচার পাইনি। শুধু এসবই নয়, ভেরুখলা জামে মসজিদের ক্যাশ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগও রয়েছে আনহারের বিরুদ্ধে। আব্দুল হক নামে এক ব্যক্তি জানান, স্থানীয়রা তাকে মসজিদের ক্যাশের দায়িত্ব দেয়। আনহারকে ক্যাশের দায়িত্ব না দেওয়ায় ঢাকা ব্যাংকের গোয়ালা বাজার শাখার সামনে থেকে ব্যাংকে প্রবেশ করা সময় ৬০ হাজার ৩৪৫টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায় আনহার মিয়া ও তার ভাই খালিছ মিয়া। স্থানীয় দোকান থেকে নিত্যপণ্য কিনে টাকা না দেওয়া ও নারীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগও রয়েছে আনহারের বিরুদ্ধে। রাবেয়া খাতুন নামে এক ভুক্তভোগী নারী বলেন, আমাকে আনহার মিয়া অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবে সারা না দেওয়ায় আমার বাড়িতে হামলা ভাংচুর-লুটপাট করে  আনহার মিয়া ও তার বাহিনী। এ নিয়ে স্থানীয়দের কাছে বিচার দিলে ভয়ে সবাই এড়িয়ে যাচ্ছে। এই গ্রামের বড় থেকে ছোট নারী-পুরুষ সবাই চায় যে আনহারের অন্যায়-জুলুম থেকে রেহাই পেতে। সবাই আনহারের একটা সুষ্ঠু বিচার চায়।

মিথ্যা মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করাও আনহার মিয়ার এক ধরনের হাতিয়ার। সম্প্রতি ভেরুখলার রফু মিয়াকে দিয়ে একটি মিথ্যা মামলা দিয়েছে আনহার মিয়া। তার মদদে রফু মিয়া মামলাটি করেন। এতে আনহারের সঙ্গে যাদের বিরোধ বা মামলা রয়েছে তাদের আসামি করা হয়েছে। গত ২৪ জানুয়ারি সিলেটের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দণ্ডবিধি ৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৫০৬ ধারায় মামলাটি করেন মো. রফু মিয়া। এতে আসামি করা হয় একই গ্রামের ইসকন্দর আলীর ছেলে সুমন মিয়া, আব্দুল মন্নানের ছেলে মিন্টু,মৃত মিয়াধন উল্ল্যার ছেলে আব্দুন নুর ও আব্দুল হান্নানকে।

জানা গেছে, সুমন মিয়ার কেনা জমিতে গেট নির্মাণের বাদা দিয়ে আসছে আনহার। গত এক বছর ধরে থানা পুলিশের সহায়তা গেট নির্মাণ করতে পারেনি। ঘটনার দিন বুধবার ওসমানী নগর থানার ওসি রাশেদুল হক একজন দারোগাসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। এ সময় আনহার উপস্থিত না থেকে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি অর্ধশত সন্ত্রাসী নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকে। ওসি ঘটনা স্থল পরিদর্শন শেষে আনহার ও সুমন মিয়াকে ওই দিন বিকালে থানায় উপস্থিত থাকার কথা বলে বিদায় নেত প্রস্তুত হন। এসময় বিল্লাল গালিগালাজ করে আব্দুল নূরকে। আব্দুল নুর একজন ব্রিটিশ পাসপোর্ট দারি প্রবিন মুরুব্বি উনার বয়স আশির কাছাকাছি ঊনি লাঠী ভর দিয়ে চলাফেরা করেন। এক পর্যায়ে বিল্লাল উনার হাতের লাটি জোরপূর্বক করে ছিনিয়ে নেয়ার চেস্টা করে। দস্তাদস্তির একপর্যায়ে বিল্লাল সামান্য আঘাত পায়। এর প্রত্যক্ষদর্শী থানার ওসি নিজেই এবং প্রশাসনের কর্ম-কর্তা। উক্ত ঘটনা ভিন্ন খ্যাতে নেয়ার জন্য আনহার মিয়া তার চাচাত ভাই রফু মিয়াকে দিয়ে চিফ জুডিশিয়াল আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করে প্রবাসি সুমন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা নং ২৪। মামলায় উল্লেখ করে ১ নম্বর আসামি সুমন মিয়া তার হাতে দেশিয় অস্ত্র দা দিয়ে বিলালকে মাথায় আঘাত করে এই ঘটনার প্রত্যক্ক দর্শি উক্ত ওসমানি নগর থানা অসি ও থানার কর্ম কর্তা।

উল্লেখ্য, থাকা আবশ্যক রফু মিয়া মিয়া বিগত ১৮-৫-২৩ ইং আরেকটি মিথ্যা মামলা সুমন মিয়ার উপর দায়ের করে। মামালা বিবরনিতে লেখা যে সুমন মিয়া রফু মিয়াকে হাতে থাকা রান্দা দিয়ে গুরুতর জখম করে। দুঃখের বিশয় ১৩-০৫-২৩ ইং সুমন মিয়া যুক্ত্ররাজ্য চলে যান। তাই সসম্পুর্ণ মিথ্যা বর্ণনায় হয়রানি করার জন্য উক্ত মামলা দায়ের করিয়াছেন যাহা খারিজ যোগ্য তদ্রুপ ১৭-০১-২৪ আরেকটি মিথ্যা মামলা সুমন মিয়ার উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে এঘটনার পরে সুমন মিয়াদের বাড়িতে হামলা করতে আনহার বাহিনী লাঠি শোটা নিয়ে জড় হলে ওসি, তার গাড়ি ড্রাইভার এবং বডিগার্ড মিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করেন।

এ বিষয়ে মিন্টু মিয়া বলেন, আনহার প্রবাসী সুমন মিয়ার জায়গা দখল করার জন্য মূলত এমন একটা ঘটনা ঘটাতে চেয়েছিল। তার বৈধ কোন কাগজপত্র না থাকা সত্যে আনহার সুমন মিয়ার কবর স্থানে গেট করতে দেয়নি। এছাড়াও গত ২০১২ সালে জুনে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়ে মামলা করেছিলেন আনহার। কিন্তু পরবর্তীতে সেই মামলা কোট টিকেনি। আনহার এ এলাকায় যা খুশি তাই করে আসছে অদৃশ্য এক শক্তির ইশারায় যাদের কাছে থানা পুলিশও অসহায়।

হাজী ইসকন্দর আলী ছেলে সুমন মিয়া জানান, তিনি একজন প্রবাসী। তিনি বলেন, আমাদের কবর স্থানের জায়গা বাড়ানোর জন্য আমি উক্ত কবর স্থানের সামনের জায়গা আমাদের গ্রামের উস্তার আলীর কাছ থেকে ক্রয় করেছি। যেখানে আমার বাবার কবর রয়েছে। উক্ত জায়গাতে আমি বাউন্ডারি দিয়ে জায়গা শনাক্তকরণের শেষ পর্যায়ে আনহার মিয়া এসে বাধা দেয় এবং বলে ওই জায়গার মালিক নাকি তার চাচা। আমার লোকজন কাজ করলে ওদের উপর হামলা করে আমার বাউন্ডারির ঠিকাদার দুলাল মিয়া গুরুতর আহত হয়। যার কারণে আমার বাউন্ডারির কাজ এখন ও সম্পন্ন হয়নি। অথচ রফু মিয়াকে দিয়ে উল্টো আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করছে আনহার।

অভিযোগ: গত বছরের ৩০ আগস্ট ওসমানীনগরের ভেরুকলা গ্রামের আব্দুল হান্নান বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আনহার মিয়ার বাড়ির সামনে থেকে যাওয়ার সময় তার পথরোধ করে মারপিট করে এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। এ ঘটনায় পরের দিন ১ সেপ্টেম্বর ওসমানীনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন (জিডি) ভুক্তভোগী। যার নম্বর-৪০। জিডির বিবরণ থেকে জানা গেছে, মুরাদপুর মেজার জে. এল নং-২০, খতিয়ান নং-এসএ ৭২, বিএস-১৮৪, দাগ নং-৫৪৬ এ ০ দশমিক ৫ শতক জমিকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী আব্দুল হান্নানের সঙ্গে আনহারের বিরোধ চলছে। বর্তমানে এ সংক্রান্ত একটি মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। ওই মামলার ধার্য তারিখে যাতে আব্দুল হান্নান আদালতে না যান সেজন্য তাকে মারধরও করা হয় এবং প্রাণ নাশের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হয়।

ভূমি দস্যুতার অভিযোগও রয়েছে আনহার মিয়ার বিরুদ্ধে। গত বছরের ২৬ এপ্রিল ভেরুকলার উস্তার আলির ৬ দশমিক ৭৮ শতক জমি ক্রয় করেন একই গ্রামের সুমন মিয়া। এছাড়া ওই বছরের ১০ আগস্ট একই গ্রামের সুফি মিয়ার ৩ দশমিক ৩৯ শতক জমি ক্রয় করেন তিনি। এই ১০ দশমিক ১৭ শতাংশ জমি নামজারি করে ভোগ দখলে আছেন সুমন। কিন্তু ওই জমিতে চোখ পড়েছে ভূমি দস্যূ আনহারের। জমিতে বাউন্ডারী গেট নির্মাণ করতে গেলে আনহার বাধা দেন। প্রতিবাদ করলে বাড়িতে এসে হামলা মারধর করে আনহার গংরা। এ ঘটনায় ওসমানীনগর থানায় অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ভুক্তভোগী সুমন জানান, তাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। ভয় শঙ্কায় দিন কাটছে তার। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার স্থানীয়ভাবে বিচার সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু কোনো সুরাহা না হওয়ায় আইনের আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। কিন্তু তাতেও কোনো সুফল মেলেনি।

ভূমিদস্যু আনহার হামলা ভাঙচুর লুটপাট জমি দখল করেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ম্যানেজ করে মামলার আসামি থেকে নাম তুলে নেন। ফলে তার অপরাধের বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ কিংবা মামলা করলেও পরবর্তীতে অভিযোগ পত্রে আর নাম থাকেনা আনহার মিয়ার। জানা গেছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে গত ২০২২ সালের ৩ মার্চ ভেরুখলা গ্রামে তোফায়েল আহমদ শুভর বাড়িতে হামলা ভাঙচুর চালায় আনহার ও তার লোকেরা। এতে তোফায়েলের মা ছোটভাইসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় পরের দিন স্থানীয় ওসমানীনগর থানায় একটি মামলা করে ভুক্তভোগী পরিবার। যার মামলা নং-৩। মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আদালত থেকে মামলাটি পিবিআইকে তদন্ত করতে দেওয়া হয়। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা মামলার ১ নম্বর আসামিকে বাদ দিয়ে দিয়েছেন।

ওই গ্রামের প্রবিন মুরুব্বি আব্দুল কাদির জানান, তার মুদি দোকান থেকে আনহার মিয়া বাকিতে মালামাল ক্রয় করে। কিন্তু যখনই বকেয়া টাকা চাওয়া হয় তখন বলে পরে দিবো। একদিন আমার ছেলে দোকানে ছিল। সে আনহারকে বকেয়া টাকা চাইলে আমার ছেলেকে মারধর করে আমার দোকান লুটপাট করে নিয়ে যায়।

রাজধানীতে বাসে আগুন

রাজধানীর ডেমরায় আসমানি পরিবহন নামে একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়েছেন দুর্বৃত্তরা। সোমবার (৬ নভেম্বর) রাত ২টার দিকে হাজীনগর পুরাতন ৫তলা ভবনের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, আগুন লেগে বাসের বেশ কয়েকটি সিট পুড়ে গেছে। তবে ঘটনাস্থলের পাশে একটি অভ্যন্তরীণ পানি নিষ্কাশন খাল থাকায় বাসটিতে আগুন লাগার পরপরই চালকসহ পথচারীরা দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়।

খবর পেয়ে ডেমরা থানা পুলিশ পুড়ে যাওয়া ওই বাসটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ডেমরা থানার ওসি (তদন্ত) মো. ফারুক মোল্লা বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে নাশকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিএনপি—জামায়াতের দুষ্কৃতকারীরা বাসে আগুন দিয়েছে। তাদের এ রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে বাস কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে যথাযোগ্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুবদল নেতাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে গেল দুর্বৃত্তরা

নাটোরে সড়ক থেকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে মাসুদ রানা (৩৫) নামের এক যুবদল নেতাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ১০ কিলোমিটার দূরে ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায় নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত মাসুদ রানা বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মাসুদ রানা লালপুরের বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের নাগসোশা গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে। তিনি বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক। বিলমাড়িয়া বাজারে তাঁর প্রসাধনীর দোকান রয়েছে।

ঘটনাস্থলের আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাসুদ রানা বিলমাড়িয়া বাজারে নিজের দোকান বন্ধ করে অন্য একজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে নাগসোশা গ্রামে নিজ বাড়িতে যাচ্ছিলেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাজারের পশ্চিম পাশের সড়কে একটি মাইক্রোবাস দাঁড়িয়ে ছিল। তিনি ওই মাইক্রোবাসের কাছাকাছি পৌঁছালে ছয় থেকে সাতজন লোক নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাঁকে থানায় যাওয়ার জন্য মাইক্রোবাসে উঠতে বলেন। কারণ, জানতে চাইলে তাঁরা তাঁকে জোর করে মাইক্রোবাসে উঠিয়ে চোখ-মুখ বেঁধে ফেলেন। প্রায় ঘণ্টাখানেক পর তাঁকে মাইক্রোবাস থেকে নামিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন। এ সময় তাঁর ডান পা ও ডান হাতের নিচের অংশ কুপিয়ে রগ কেটে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। তাঁর মাথায়ও একটা ফোলা জখম রয়েছে। পরে তাঁকে সেখানে ফেলে রেখে মাইক্রোবাসটি চলে যায়।

পথচারীরা মাসুদ রানাকে পড়ে থাকতে দেখে তাঁর পকেটে থাকা মুঠোফোন থেকে স্ত্রীর নম্বর সংগ্রহ করে ফোন দিয়ে ঘটনাটি জানান। তখন তিনি ও তাঁর পরিবারের লোকজন জানতে পারেন মাসুদ রানাকে অপহরণের স্থান থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে গোপালপুর মহিলা কলেজের পাশে ফেলে রাখা হয়েছে। তখন পরিবারের লোকজন সেখানে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে এবং লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গতকাল রাতে দায়িত্বে ছিলেন চিকিৎসা কর্মকর্তা খোরশেদ আলম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মাসুদ রানার ডান পায়ের হাঁটুর নিচে ও ডান হাতে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। মাথাতেও আঘাত ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মাসুদ রানার সঙ্গে সালাহ উদ্দিন নামের এক স্বজন অবস্থান করছেন। তিনি মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, মাসুদ রানা সক্রিয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দুর্বৃত্তরা তাঁর হাত–পায়ের রগ কাটলেও কাছে থাকা টাকাপয়সা নেয়নি। রাজনৈতিক কারণে তাঁকে আঘাত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজ্জ্বল হোসেন বলেন, পুলিশের কেউ এ ঘটনা ঘটায়নি। কারা ঘটিয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হবে। তবে এ ব্যাপারে আজ শনিবার সকাল পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি।

বিএনপি নেতা–কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর পুলিশের অবস্থান। আজ বেলা ১১টায় কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতি বাসস্ট্যান্ড এলাকায়

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতা–কর্মীদের সংঘর্ষে একজনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে পুলিশ। তবে বিএনপির দাবি, পুলিশের গুলিতে তাঁদের দুজন নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার সকাল আটটার দিকে উপজেলার ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের ছয়সূতি বাসস্ট্যান্ডে এই ঘটনায় দুই পক্ষের অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল মিল্লাত বলেন, ‘আমাদের মিছিল ছিল খুবই শান্তিপূর্ণ। শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ নির্বিচার গুলি ছোড়ে। পুলিশের গুলিতে রিফাত ও বিল্লাল নামে আমাদের দুইজন নেতা মারা যান।’

হলি আর্টিজান হামলার ৭ জঙ্গির সাজা কমলো

আলোচিত রাজধানীর গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা ও নৃশংস হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৭ জঙ্গির সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে হাই কোর্ট।

সোমবার (৩০ অক্টোবর) বিচারপতি সহিদুল করিম ও বিচারপতি মো.মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া আসা‌মিরা হলেন- জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধী, আসলাম হোসেন ওরফে র‌্যাশ, আব্দুস সবুর খান, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, হাদিসুর রহমান, শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ ও মামুনুর রশিদ। রায়ে আদালত বলেছেন, আসামিরা স্বাভাবিক মৃত্যু না হওয়া কারাগারেই থাকবেন। এর আগে বেলা ১১টা ২৮ মিনিটে রায় পড়া শুরু হয়। রায়ের সংক্ষিপ্ত অংশ পাঠ করেন বেঞ্চের জুনিয়র বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

রায় ঘোষণার সময় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ, সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল নির্মুল কুমার দাশ উপস্থিত ছিলেন।  এছাড়া আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট আমিমুল এহসান জুবায়ের উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত ১১ অক্টোবর আলোচিত এ মামলায় সাতজনের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন) ও আসামিদের আপিল শুনানি শেষ হয়।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে হামলা চালিয়ে বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির (আত্মঘাতী) সদস্যরা। তাদের গুলিতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। পরে কমান্ডো অভিযানে নিহত হন পাঁচ জঙ্গি।

এ ঘটনার মামলায় ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান একজনকে খালাস দিয়ে সাতজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। ফৌজদারি মামলায় বিচারিক আদালত যখন আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দেন তখন ওই দণ্ড কার্যকরের জন্য হাইকোর্টের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। এজন্য সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা মোতাবেক মামলার সব নথি হাইকোর্টে পাঠিয়ে দেন। যা ডেথ রেফারেন্স নামে পরিচিত। ওই নথি আসার পর হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংশ্লিষ্ট মামলার পেপারবুক প্রস্তুত করে।

সে অনুযায়ী ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়।  দে‌শের ই‌তিহা‌সে অন্যতম নৃশংস এ হামলায় ৯ জন ইতালীয়, ৭ জন জাপানি, একজন ভারতীয়, একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান দ্বৈত নাগরিক ও দুজন বাংলাদেশিসহ মোট ২০ জনকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সন্ত্রাসীদের গ্রেনেডের আঘাতে প্রাণ হারান বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন আহমেদ ও সহকারী পুলিশ কমিশনার রবিউল ইসলাম।

হামলার পর জিম্মি অবস্থার অবসানে সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে নিহত হয়েছিলেন পাঁচ জঙ্গি। তারা হলেন- মীর সামেহ মোবাশ্বের, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ ওরফে মামুন, নিবরাস ইসলাম, খায়রুল ইসলাম পায়েল ও শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল।

এছাড়া বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছেন নব্য জেএমবির আরও ৮ সদস্য। তাদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবুল হাসনাত রেজা করিমও অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পান।

ওই ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গুলশান থানায় একটি মামলা করেন ওই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রিপন কুমার দাস। পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির মামলাটি তদন্ত করে ২০১৮ সালের ১ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।

মোহাম্মদপুরে বাসের আগুন, জনমনে আতঙ্ক

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের টাউন হল ও ময়ূর ভিলার বিপরীত পাশে পরিস্থান ও স্বাধীন পরিবহনের দুটি আগুনের ঘটনা ঘটেছে। রোববার(২৯ অক্টোবর) ভোররাতে ও সকাল দশটার পর পৃথক দুটি বাসে আগুনের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোররাত ৫টার দিকে ময়ূর ভিলার বিপরীত পাশে দাঁড়ানো স্বাধীন পরিবহনের একটি বাসে হঠাৎ আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এরপর সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে টাউনহলে ২০-৩০ জনের একটি গ্রুপ হরতালের সমর্থনে মিছিল নিয়ে বের হয়ে পরিস্থান পরিবহনের একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার জানান, ১০ টা ২১ মিনিটে টাউনহল এলাকায় একটি বাসে অগ্নিকাণ্ডের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। পরে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয়।

আগুনে বাসটি প্রায় পুরোপুরি পুড়ে গেলেও হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানান তিনি।

এ ঘটনা ছাড়াও সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর তাঁতিবাজারে বিহঙ্গ পরিবহনের একটি বাসে দুর্বৃত্তরা আগুন লাগিয়ে দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে বলেও ফায়ার কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ইসলামী ব্যাংক মিয়ারহাট শাখার অফিস সহকারী মো. ইকবাল হোসাইন।

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ইসলামী ব্যাংক মিয়ারহাট শাখার ইকবাল হোসেন নামের এক অফিস সহকারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর মিয়ারহাট বাজারে বাহাউদ্দীন বুলবুল বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ইকবাল (২৬) চট্টগ্রামের পুটিয়া উপজেলার হায়দাহঞ্জের আব্দুল নবির হোসেনের ছেলে। তিনি ওই রুম ভাড়া নিয়ে একা থাকতেন।

ইকবালের পাশের রুমে ভাড়া থাকা মো. নাইম নামের এক যুবক জানান, গতকাল শুক্রবার রাত ৯টার দিকে তাকে (ইকবাল) সর্বশেষ রুমে ঢুকতে দেখা গেছে। সারা দিনে তাকে দেখতে না পেয়ে কৌতূহল হয়। কারণ, তাকে সকাল ৯টার বেশি কখনো ঘুমানো থাকতে দেখেনি কেউ। তাই রুম বন্ধ দেখে রুমের দরজায় কড়া নেড়ে কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না।

একপর্যায়ে ঘরের মালিকের বড় ভাইকে ডেকে বিষয়টি জানানো হয়। এরপর তিনি ডাকাডাকির পর দরজার নিচে ভাঙা স্থান দিয়ে তাকালে তার পা ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। বিষয়টি পুলিশকে জানালে তারা এসে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে।

নেছারাবাদ থানার ওসি মো. গোলাম সরোয়ার জানান, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কী কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছে, সঠিক কারণ জানা যায়নি। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে রোববার (২২ অক্টোবর) সকালে মরদেহ পিরোজপুর মর্গে পাঠানো হবে।

কুমিল্লায় চেম্বারে ঢুকে চিকিৎসককে ছুরিকাঘাত

কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্সে শাপলা টাওয়ার নামে একটি ভবন পরিচালনা কমিটির দ্বন্দ্বে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন একই এলাকার শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জহিরুল হক। এ ঘটনায় ওই চিকিৎসকের স্ত্রীও আহত হন। গুরুতর আহত চিকিৎসককে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।

শনিবার (২১ অক্টোবর) নগরীর রেসকোর্সে ওই চিকিৎসকের চেম্বার এ ঘটনা ঘটে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আহমেদ সনজুর মোর্শেদ জানান, এ ঘটনায় সালাউদ্দিন মোর্শেদ পাপ্পু নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদেরও আটকের জন্য অভিযান চলছে।

ডা. জহিরের স্ত্রী হিমির বড় ভাই কাজী শরিফ বলেন, রেসকোর্সে শাপলা টাওয়ারের পরিচালনা কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকে একদল লোক এসে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় ডা. জহির গুরুতর আহত হয়। আমার বোনকেও ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। সেও চিকিৎসাধীন।

স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা, সন্দেহে বন্ধুরা

পাবনা শহরে মোস্তাফিজুর রহমান সিয়াম (১৮) নামের এক স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার (২১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে পাবনা পৌর শহরের শান্তিনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সিয়াম পাবনা পৌর সদরের পৈলানপুর পাওয়ার হাউসপাড়া মহল্লার ইব্রাহিম আলীর ছেলে। তিনি আর এম একাডেমির দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় রাধানগর রথঘর এলাকায় সিয়ামের সঙ্গে তার বন্ধু সৈকত, আরিফসহ আরো কয়েকজনের পূর্ববিরোধ নিয়ে কথাকাটাকাটি এবং হাতাহাতি হয়। পরে রাতে শান্তিনগর এলাকায় সিয়ামকে একা পেয়ে কুপিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত সিয়ামের বাবা ইব্রাহিম আলী বলেন, ‘একজন ফোন করে জানাল আমার ছেলেকে নাকি চাকু মারছে, তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে। গিয়ে দেখি ছেলেটা মারা গেছে। কারা কী কারণে ছেলেটাকে মারল কিছুই বুঝতে পারছি না। যারাই এ হত্যার সঙ্গে জড়িত তাদের গ্রেপ্তার ও বিচার চাই।’

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রওশন আলী বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও হাসপাতালে নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। রোববার নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে।’

লাশ উদ্ধারের খবরে ঘটনাস্থলে এলাকাবাসীর ভিড়।

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার দর্শনায় মনজুরা খাতুন মিম (৩২) নামের এক নারীকে রাতে তুলে নিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তার ভাই আলমগীর হোসেন (৩০)। শনিবার (২২ অক্টোবর) রাতে মোহাম্মদপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

নিহত মনজুরা খাতুন মি‌মের লাশ তার বাড়ির পাশের বেগুনক্ষেত থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। আহত আলমগীর আশঙ্কাজনক অবস্থায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার রাত আটটার দিকে বেশ কয়েকজন দুর্বৃত্তরা দর্শনা মোহাম্মদপুরের আলমগীরের বাড়িতে আসে। এ সময় আলমগীরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যেয়ে হাত-পা বেঁধে পাশের মাঠে রাখে। এ সময় তার বোন মনজুরা খাতুন প্রতিবাদ করলে তাকে ধরে তুলে নিয়ে যায়। রাতভর নিখোঁজ থেকে সকালে তাদের বাড়ির পাশের বেগুনক্ষেতে মনজুরার বিবস্ত্র লাশ পাওয়া যায়।

খবর পেয়ে সকালে চুয়াডাঙ্গার সহকারী পুলিশ সুপার দ‌ামুড়হুদা সা‌র্কেল জাকিয়া সুলতানা ও দর্শনা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা সহকারী পুলিশ সুপার জাকিয়া সুলতানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মনজুরা খাতুনকে রাতে তুলে নিয়ে যেয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার ভাইকে কুপিয়ে‌ছে। ঘটনাস্থল থে‌কে মনজুরার লাশ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চল‌ছে। ঘটনার রহস্য উন্মোচনের জন্য পুলিশের বিশেষ টিম কাজ করছে। খুব শিগগিরই আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে।

Scroll to Top