২১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৪:৫৯

অর্থনীতি

আলু আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার

বাজারে আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে আলু আমদানিতে ছাড় দিয়েছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশে আলুর চাহিদা পূরণের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ আলু উৎপাদন না হওয়ায় বাজারে দাম বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাজারে আলুর সরবরাহ বৃদ্ধি ও দাম স্থিতিশীল রাখতে আমদানিতে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

আগ্রহী আমদানিকারকদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। আবেদনপত্রের সঙ্গে আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। আবেদনপত্র গ্রহণের পর আমদানিকারকদেরকে আমদানি অনুমতি দেওয়া হবে। আমদানিতে ছাড় দেওয়ার ফলে বাজারে আলুর সরবরাহ বাড়বে এবং দাম কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)

অর্থ বিভাগ গত জুন, জুলাই ও আগস্টে ৩০০ কোটি টাকা চেয়ে তিন দফা চিঠি পাঠালেও ইপিবি সাড়া দেয়নি।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তহবিলে এখন ৭০০ কোটি টাকা আছে। বিভিন্ন ব্যাংকে স্থায়ী আমানত (এফডিআর) আকারে জমা আছে এ টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের মতে, এ টাকা ইপিবির উদ্বৃত্ত টাকা। সে জন্য তারা গত জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে ইপিবিকে তিন দফা চিঠি দিয়ে ৩০০ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে বলেছে।

কিন্তু ইপিবি কোনো টাকা দিতে রাজি নয়। ইপিবি জানায়, তারা নিজেরাই অর্থের সমস্যায় আছে। তাদেরও টাকা দরকার। তাই এখন রাষ্ট্রীয় কোষাগারে টাকা দেওয়ার বাস্তবতা নেই তাদের।

সরকার ২০২০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ‘স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশনসহ স্বশাসিত সংস্থাগুলোর তহবিলের উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান’ শীর্ষক আইন পাস করে।

আইন পাসের পর বিভিন্ন সংস্থা থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাগুলোর কাছে গত জুন পর্যন্ত উদ্বৃত্ত অর্থ ছিল প্রায় পৌনে তিন লাখ কোটি টাকা।

অর্থ বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, তহবিলের অর্থ ব্যাংকে এফডিআর করার বিনিময়ে সব দপ্তরই একধরনের সুবিধা ভোগ করে থাকে। ফলে তাদের বেশির ভাগেরই প্রবণতা হচ্ছে টাকা জমা না দেওয়া। এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় কোষাগারে উদ্বৃত্ত টাকা জমা দেওয়ার ব্যাপারে কঠোর ভাষায় কোনো দপ্তরকেই কিছু বলা হয়নি। তবে প্রয়োজনে সরকার কঠোর হবে বলে জানা গেছে।

ইপিবি যে টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে টাকা জমা দেবে না, তা এখনো অর্থ বিভাগকে জানায়নি। সংস্থাটি তা জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে। বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষকে ১৭ অক্টোবর এক চিঠিতে ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান জানান, চলতি ২০২৩–২৪ অর্থবছরে টাকা জমা না দেওয়া থেকে তারা অব্যাহতি চায়।

চিঠিতে ইপিবি বলেছে, ৭০০ কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যাংকে জমা থাকলেও নিজস্ব অর্থায়নে ইপিবি ভবন নির্মাণের একটি প্রকল্প চলছে। সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (আরডিপিপি) অনুযায়ী এ ভবন নির্মাণে ২৮০ কোটি, দ্বিতীয় আরডিপিপি অনুযায়ী বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার (বিসিএফইসি) বাস্তবায়নে ৫০২ কোটি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাধারণ ভবিষ্য তহবিল ও পেনশনসংক্রান্ত ভর্তুকি তহবিলে ৮০ কোটি, অর্থাৎ সব মিলিয়ে ৮৬২ কোটি টাকা দরকার হবে।

সে বিবেচনায় ইপিবির তহবিলে ঘাটতি হতে পারে ১৬২ কোটি টাকা। বর্তমান বাস্তবতায় ৩০০ কোটি টাকা দিতে হলে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য একই পরিমাণ অর্থ সরকারের কাছ থেকে ধার নিতে হবে, যা যৌক্তিক নয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ইপিবির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান। টিপু মুনশির সভাপতিত্বে গত ৩০ আগস্ট অনুষ্ঠিত পর্ষদ সভায় ৩০০ কোটি টাকা দেওয়া না–দেওয়ার বিষয়ে দিকনির্দেশনা চাওয়া হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী তখন রাষ্ট্রীয় কোষাগারে টাকা জমা দেওয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য অর্থ বিভাগকে চিঠি লেখার জন্য ইপিবিকে নির্দেশ দেন।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান গতকাল মঙ্গলবার মুঠোফোনে বলেন, ‘আমরা আগে একবার ৩০০ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে দিয়েছি। এখন ইপিবির যেহেতু দুটি প্রকল্প চলমান সেহেতু রাষ্ট্রীয় কোষাগারে টাকা দেওয়া একটু কঠিন। দিলে পরে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আবার সরকার থেকে টাকা নিতে হবে।’

বিনিয়োগ হয়েছে ১১ কোটি টাকার বেশি

সর্বজনীন পেনশন তহবিলের অর্থ ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ হচ্ছে। ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করার উদ্দেশ্য হচ্ছে এ উৎস নিরাপদ ও কম ঝুঁকিপূর্ণ। মোট জমা পড়া অর্থ থেকে প্রাথমিকভাবে ১১ কোটি ৩১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে এ বন্ডে। আজ রোববার এ বন্ডের বিপরীতে সুদহার ছিল ১০ দশমিক ৫ শতাংশ।

এ তথ্য জানিয়ে সচিবালয়ে আজ পেনশন তহবিলের অর্থ ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ও অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কবিরুল ইজদানী খান, জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য ও অতিরিক্ত সচিব মো. গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।

বাংলাদেশ ব্যাংক। ফাইল ছবি

দেশে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল ব্যাংক গঠনের প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় ৮ প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল ব্যাংক গঠনের প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠানকে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ব্যাংক গঠনের অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিন প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল উইং চালুর অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাকি তিন প্রতিষ্ঠান পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমতি পাবে। তবে এখন অনুমতি পাওয়া দুই প্রতিষ্ঠানের সেবা কেমন, তা পর্যালোচনার পর।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ফাইল ছবি

ব্যাংক খাতের সুদের হার ৯-৬ শতাংশ বেঁধে দেওয়া না হলে ব্যাংক খাত খুঁজে পাওয়া যেত না বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সর্বজনীন পেনশন স্কিমে জমা পড়া চাঁদার টাকা ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করার কার্যক্রম উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আজ রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

কোভিড-১৯ মহামারি শুরু হওয়ার পরের মাসে, অর্থাৎ ২০২০ সালের এপ্রিলে ব্যাংক ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ এবং আমানতের সুদের হার ৬ শতাংশ নির্ধারণ করে দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

হামাস ঠেকাতে আর্থিক অস্ত্রও প্রয়োগ করছে ইসরায়েল

দুই সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে ইসরায়েলের হামলায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার গাজাবাসী নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছে প্রায় ১২ হাজার মানুষ। অন্যদিকে এই সময়ে গাজার ১০ লাখের বেশি অধিবাসী বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট তাদের এক প্রতিবেদনে বলেছে, হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ শুধু সামরিক কর্মকাণ্ডের মধ্যেই আর সীমাবদ্ধ নেই। ইতিমধ্যে গাজায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রায় প্রতিটি উৎসকে বন্ধ বা সীমিত করে দিয়েছে ইসরায়েল। পাশাপাশি খাদ্য, পানি সরবরাহ ও চিকিৎসা সুবিধাও বন্ধ করেছে দেশটি।

৭ অক্টোবরের পর থেকে গাজায় অবিরাম বোমা ফেলে চলেছে ইসরায়েল। তিন দিকে ইসরায়েল দিয়ে ঘেরা গাজার আশপাশের এলাকাগুলো ইতিমধ্যে বোমা মেরে ধূলিসাৎ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ গত সপ্তাহে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, গাজার ২৩ লাখ মানুষ এখন ‘একটি অতল গহ্বরের দ্বারপ্রান্তে’।

প্রায় দুই দশক ধরে গাজার অর্থনীতি মূলত আন্তর্জাতিক দাতাদের সহায়তার ওপরেই নির্ভরশীল। কিন্তু সম্প্রতি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস ইসরায়েলে অতর্কিত হামলা করলে সব ধরনের বিদেশি সহায়তার পথ বন্ধ করে দেয় দেশটি। শুধু ইসরায়েলি ভূখণ্ডই নয়, পার্শ্ববর্তী মিসর বা ভূমধ্যসাগর হয়েও কাউকে সেখানে সহায়তা পৌঁছাতে দেবে না বলে জানিয়েছে ইসরায়েল।

তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত ও বাস্তুচ্যুত গাজাবাসীর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ মিসরে যাওয়ার একটি পথ খোলার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি সেখানে ত্রাণ পৌঁছানোর জন্যও পুরো বিশ্ব থেকে চাপ রয়েছে। এ নিয়ে নানা চাপ ও সমালোচনার মধ্যে সর্বশেষ ১৮ অক্টোবর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, মিসরের সীমান্ত পেরিয়ে গাজা ভূখণ্ডে মাত্র সীমিত পরিমাণ খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহের অনুমতি দেবে তার সরকার।

এরপর গত শনিবার (২১ অক্টোবর) মিসর থেকে ত্রাণসহায়তা নিয়ে ২০টি ট্রাকের একটি বহর গাজায় প্রবেশ করে। কিন্তু গাজাকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার ইসরায়েলি পরিকল্পনায় ইসরায়েল এখনো স্থির রয়েছে। ইসরায়েল চায়, যেকোনো উপায়ে হামাসের শ্বাসরোধ করতে। এর জন্য অর্থনৈতিক ও সামরিক উভয় অস্ত্র ব্যবহার করছে দেশটি।

কেন ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল

১৯৯৪ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় করা একটি চুক্তি অনুসারে ইসরায়েল, গাজা ও পশ্চিম তীর নিয়ে একটি একক বাজার অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ব্যবহার করার কথা। চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলে কাজ করতে পারবে এবং সেখান থেকে আয়ের অর্থ গাজা ও পশ্চিম তীরে ফেরত নিতে পারবে।

তবে বাস্তবতা হচ্ছে, ফিলিস্তিনিদের কর্মসংস্থান ও বিভিন্ন পরিষেবা ব্যবহারের বিষয়ে ইসরায়েল বরাবরই নানাবিধ নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে। পশ্চিম তীরে বসবাসকারী মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ফিলিস্তিনির বর্তমানে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যবহারের সুবিধা আছে। আর সেখানে ১০ শতাংশ লোক সরকারি পানি সরবরাহের সুবিধা ছাড়াই জীবন অতিবাহিত করছেন।

এ ছাড়া পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলে কেবল স্বল্প-দক্ষতাসম্পন্ন বা কম বেতনের চাকরিতে কাজ করার অনুমতি পান। সে ক্ষেত্রেও তাঁদের চলাচলের ওপর থাকে কঠোর বিধিনিষেধ। একজন ইসরায়েলি নাগরিকের গড় আয় ফিলিস্তিনিদের তুলনায় ১৫ গুণ বেশি। আর গাজাবাসীর ক্ষেত্রে তো কাজের সুযোগ নেই বললেই চলে। এসব কারণে ফিলিস্তিনি অর্থনীতি এখনো ত্রাণ বা অনুদানের ওপরেই নির্ভরশীল রয়েছে।

গাজায় পরিস্থিতি বেশি খারাপ

২০০৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পশ্চিম তীরে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল গড়ে ২ দশমিক ৮ শতাংশ। একই সময়ে গাজায় গড় জিডিপি বছরে আড়াই শতাংশ হারে সংকুচিত হয়েছে। ২০০৭ সালে গাজার ক্ষমতা গ্রহণ করে হামাস। এর পর থেকে এই অঞ্চলটি প্রায় সম্পূর্ণভাবে ইসরায়েলি অবরোধের মধ্যে দিন পার করছে।

সাম্প্রতিক হামলার আগপর্যন্ত ইসরায়েল থেকে গাজায় বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু চাহিদার তুলনায় মাত্র এক-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ পেত গাজাবাসী। ২০০৮, ২০১৪ ও ২০২১ সালের হামাস-ইসরায়েলের মধ্যে সংঘটিত তিনটি যুদ্ধের প্রতিটিতে গাজাকে কমপক্ষে এক বছরের জিডিপির সমান অর্থ খরচ করতে হয়েছে।

একটি অর্থনীতির জন্য যদি নতুন কিছু তৈরি না হয়, তাহলে শুধু প্রবৃদ্ধিই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, এর সঙ্গে বেকারত্ব বেড়ে যায়। গাজার ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। ২০২১ সালের হিসাবে গাজার প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বর্ণিত দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করেছে।

যেসব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে

গাজাবাসীর অর্থ আয় করার তথা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর কয়েকটি পথ রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো—গাজার দক্ষিণ সীমান্তে (মিসরের সীমানায়) টানেলের মাধ্যমে আমদানি ও রপ্তানি করা। কিন্তু ২০১৪ সালে হামাসের সঙ্গে সংঘর্ষের পর মিসর এসব টানেলের বেশির ভাগই বন্ধ করে দেয়।

গাজায় অর্থনীতির আরেকটি উৎস হলো আবাসন নির্মাণ। সাধারণত যুদ্ধে যেসব ভবন ধ্বংস হয়, তা পুনর্নির্মাণের কাজটিই গাজার প্রধান বাণিজ্যিক কাজগুলোর মধ্যে একটি। গত বছর এই ধরনের নির্মাণকাজ ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে চলমান যুদ্ধের পরে তা আরও বৃদ্ধি পাবে।

এ ছাড়া আয়ের আরও কিছু উৎস রয়েছে। যেমন প্রায় ৭০ হাজার গাজাবাসী ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) থেকে নিয়মিত বেতন পান। যদিও ২০০৭ সালে পশ্চিম তীর থেকে আসা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের গাজা থেকে বের করে দেয় হামাস।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার কয়েক হাজার গাজাবাসীর ব্যাংক হিসাবে প্রতি মাসে সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ডলার নগদ অর্থ জমা করে। গাজার বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ, যা পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দেওয়া কর থেকে সংগ্রহ করে ইসরায়েল। গাজার তিন লাখ শিশুকে পড়ালেখার ব্যবস্থা করেছে জাতিসংঘ। এ ছাড়া বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা বেশ কিছু হাসপাতালের মাধ্যমে ভূখণ্ডটিতে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে।

কী ধরনের অর্থসম্পদ রয়েছে

হামাস গাজার ক্ষমতা গ্রহণের পর গত ১৬ বছরে সরকারের কর্মচারীর সংখ্যা ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার করেছে। এই কর্মচারীদের বেতন গত বছর জিডিপির দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখে।

যদিও ইসরায়েল থেকে গাজায় কোনো ধরনের পণ্য আমদানির অনুমতি নেই। তবে তারা মিসর ও পশ্চিম তীর থেকে পণ্য আমদানি করতে পারে। সম্প্রতি মিসরের সঙ্গে তাদের বাণিজ্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

গাজার প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা হামাস মিসরীয় সীমান্ত অতিক্রম করে আসা সব পণ্য থেকে প্রায় সাড়ে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত কর আদায় করে। এ ছাড়া গাজার জেলেদের ধরা মাছের প্রতি কিলোগ্রামে তিন শেকেল (ইসরায়েলি মুদ্রা) কর নেয়। পাশাপাশি আয়করও ধার্য রয়েছে সেখানে। তাতে সামগ্রিকভাবে হামাস বছরে দেড় শ কোটি শেকেল আয় করে বলে অনুমান করা হয়।

পোশাক শিল্পে মজুরি

তৈরি পোশাক খাতের ন্যূনতম মজুরি ২০ হাজার ৩৯৩ টাকা করার জন্য প্রস্তাব দিয়েছেন শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা। তবে মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা ন্যূনতম মজুরি ১০ হাজার ৪০০ টাকা করার প্রস্তাব করেছেন। অর্থাৎ শ্রমিকদের প্রস্তাবের প্রায় অর্ধেক মজুরি প্রস্তাব করেছে মালিকপক্ষ।

আজ রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের চতুর্থ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা তাঁদের মতামত জানান। মজুরি বোর্ডের সভায় শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে সিরাজুল ইসলাম ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধি মো. সিদ্দিকুর রহমান তাঁদের প্রস্তাব দেন। সভা শেষে মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

Scroll to Top