২১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, রাত ২:৩৭

খেলা

চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের মর্যাদার জন্য লড়াই

আহমেদাবাদে বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল এটির। অথচ অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের ম্যাচ তেমন কোনো উত্তাপ ছড়াচ্ছে না! সেটির বড় একটা কারণ অবশ্যই ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্স। টানা চার হারে পয়েন্ট তলানিতে থাকা দলটির বাংলাদেশের সঙ্গে জয়ের স্মৃতিও মিলিয়ে যাচ্ছে, সেমিফাইনালের সম্ভাবনাটুকু কোনোরকমে টিকে আছে খাতা-কলমে। অবশ্য আজ হেরে গেলে আনুষ্ঠানিকভাবেই বিদায় নিতে হবে গতবারের চ্যাম্পিয়নদের।

অন্যদিকে প্রথম দুই ম্যাচ হারের পর টানা চারটি জেতা অস্ট্রেলিয়ার কাছে এ ম্যাচ জয়ের ধারা বজায় রেখে সেমিফাইনালের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আরেক ধাপ। অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক প্যাট কামিন্স অবশ্য এরপরও বিপজ্জনকই মনে করছেন ইংলিশদের, ‘এমন সামর্থ্যের খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া যেকোনো দল নিয়েই আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে।’

গুরুত্বপূর্ণ এ ম্যাচে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও মিচেল মার্শের মতো গুরুত্বপূর্ণ দুজনকে পাচ্ছে না অস্ট্রেলিয়া। তার ওপর অস্ট্রেলিয়াকে হারালে ইংল্যান্ড যে বাড়তি তৃপ্তি পাবে, সেটিও জানেন কামিন্স, ‘এটা পুরোনো একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ফলে মিথ্যা বলা হবে না, আমাদের হারালে তাদের কাছে ব্যাপারটি অন্য যেকোনো দলকে হারানোর চেয়ে মধুর। আর তারা সাদা বলে যত ভালো খেলেছে, সেটির ইতিহাসও আছে। ফলে তাদের জন্য দারুণ একটি জয় হবে।’

কিন্তু ইংল্যান্ড যেন জিততেই ভুলে গেছে। এখন আর বিশ্বকাপে হারানোর কিছু নেই, তাদের ক্ষেত্রে অবশ্য এটিও এখন বলা যাচ্ছে না। ২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলার সুযোগ পেতে গেলে বাকি ম্যাচগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ মাথা উঁচু করে বিদায় নেওয়াও, বেন স্টোকস বলেছেন সেটিই, ‘আমাদের বিশ্বকাপে বিপর্যয় ঘটেছে, এটিকে রং চড়িয়ে বলার মানে নেই, কারণ এটিই সত্য। কিন্তু আমরা জানি, শেষ তিন ম্যাচেও আমাদের অনেক কিছু পাওয়ার আছে। সবচেয়ে বড় অবশ্যই তিনটি সিংহের প্রতীক বুকে চেপে খেলার গর্বের ব্যাপারটা, যেটিকে আমরা অনেক মর্যাদা দিই।’

দুই দলের অবস্থান যেমনই হোক না কেন, ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার লড়াই মানে বাড়তি আকর্ষণ, স্টোকস মনে করিয়ে দিয়েছেন সেটিও, ‘যেকোনো খেলাতেই ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া খেললে সেটি বড় উপলক্ষ। বিশ্বকাপ হোক বা দ্বিপক্ষীয় সিরিজ হোক।’

বাংলাদেশের কাছে আফগানিস্তানের হার এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ধাক্কা

এবারের ক্রিকেট বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় চমক দেখালো আফগানিস্তান। ৭ ম্যাচ খেলে তারা জিতেছে ৪টিতে। হারিয়েছে ইংল্যান্ড, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার মতো দলকে। গতকাল তারা সহজ জয় পেল নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। আফগানিস্তান ক্রিকেট দল বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন দল হলেও তারা বেশ কিছু বছর ধরে নিজেদের দাবি করে আসছে। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে তারা যেভাবে পারফর্ম করেছে তাতে সবাইকে অবাক করেছে।

আফগানিস্তানের সাফল্যের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, তাদের দলে অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার রয়েছে। দ্বিতীয়ত, তাদের অধিনায়ক মুজিব উর রহমানের নেতৃত্বে দলটি খুবই সুসংগঠিত। তৃতীয়ত, তারা তাদের ঘরের মাঠে খেলার সুবিধা পেয়েছে। আফগানিস্তানের এই সাফল্য ক্রিকেট বিশ্বে নতুন এক যুগের সূচনা করেছে। আফগানিস্তানের মতো দলগুলোর জন্য এবারের বিশ্বকাপ একটি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

তবে এই আফগানিস্তানই বিশ্বকাপ শুরু করেছিলে বড় হারে। সেটাও এমন দলের বিপক্ষে, যারা কিনা সেই ম্যাচ ছাড়া আর জয়ই পায়নি। হেরেছে টানা ছয় ম্যাচে। সবার আগে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়া সেই দলের নাম বাংলাদেশ। দারুণ খেলতে থাকা এই আফগানিস্তানের বাংলাদেশের কাছে হারাই বিশ্বকাপের সত্যিকারের অঘটন মনে হচ্ছে ভারতের সাবেক ক্রিকেটার আকাশ চোপড়ার কাছে।

আফগানিস্তান বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে ৬ উইকেটে হেরেছিল। আগে ব্যাটিং করে আফগানিস্তান থেমে যায় ১৫৬ রানে, বাংলাদেশ তা টপকে যায় ৬ উইকেট হাতে রেখে। পরের ম্যাচেও হেরেছিল আফগানিস্তান। ভারতের বিপক্ষে তারা হেরেছিল ৭ উইকেটে। এরপর ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আফগানিস্তানের জয়যাত্রা শুরু হয়। সে যাত্রায় শুধু একবার ছেদ পড়েছিল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হারে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচের পর হেরেছে সব ম্যাচেই। এমনকি নেদারল্যান্ডসের কাছেও বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। আফগানিস্তান তাই প্রমাণ করেছে, এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের চেয়ে তারা ভালো দল। বাংলাদেশের বিপক্ষে তারা জিতলে তাদের সেমিফাইনালের সম্ভাবনা হয়তো এরই মধ্যে সত্যি হয়ে যেত।
আকাশ চোপড়ার চোখে বাংলাদেশের জয় তাই অঘটন।

এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের কাছে আফগানিস্তানের হার এই বিশ্বকাপের সত্যিকারের অঘটন, যেটা বিশ্বকাপে বাংলাদেশের একমাত্র জয়। যদি আফগানিস্তান জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করত, তারা আজই (গতকাল) সেরা চারে চলে যেত।’

পয়েন্ট তালিকার পাঁচে থাকা আফগানিস্তানের এখনো দুটি ম্যাচ বাকি। দলটির শেষ দুই ম্যাচের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা। দুটিতেই জিতলে সেমিফাইনালে উঠে যাবে তারা, কারণ চারটির বেশি দলের ১২ পয়েন্ট তোলার সুযোগ নেই। আর দুই ম্যাচের একটিতে জিতলে ১০ পয়েন্ট নিয়েও চতুর্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে আফগানদের।

অন্যদিকে বাংলাদেশ আছে টেবিলের ৯ নম্বরে। বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হয়ে যাওয়ার পর তারা এখন চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলার স্বপ্ন দেখছে। ২০২৫ সালে হতে যাওয়া সেই টুর্নামেন্টে খেলতে হলে বিশ্বকাপে শীর্ষ সাত দলের মধ্যে থাকতে হবে। যদিও সেই কাজ বাংলাদেশের জন্য কঠিন। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ বাকি দুই ম্যাচ খেলবে অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।

1

লতি বিশ্বকাপে টানা চার ম্যাচ হেরার পর নিজেদের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জয়ের আশায় ছিল পাকিস্তান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১ উইকেটের ব্যবধানে হারতে হয়েছে তাদের। টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তান ৪৬.০৪ ওভারে ২৭০ রান তুলে অলআউট হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা ২৭১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমেও মাঝে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাবরাইজ শামসির অনবদ্য ইনিংসে জয়ের পথে এগোতে থাকে তারা। শেষ ওভারে ১১ বলে জয়ের জন্য ১২ রান দরকার ছিল প্রোটিয়াদের। শেষ বলে শামসির শটটি ছিল আউটের জন্য, কিন্তু আম্পায়ার্স কলে বেঁচে যান তিনি। আর তাতেই জয় নিশ্চিত হয় দক্ষিণ আফ্রিকার।

এই হারের ফলে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ স্বপ্ন প্রায় শেষ হয়ে গেল। এখন তাদের বাকি তিন ম্যাচ জিততে হবে এবং অন্য দলগুলোর ফলাফলেও নির্ভর করতে হবে।

ম্যাচ শেষে বাবর আজম বলেছিলেন, আম্পায়ার্স কল খেলার অংশ, ‘ডিআরএস খেলারই অংশ। তবে ওটা যদি (আম্পায়ার) আউট দিতেন, সেটা আমাদের পক্ষে যেত। আম্পায়ার্স কল যেটা হয়ে গেছে, সেটা খেলারই অংশ।’

তবে সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার হরভজন সিং মনে করেন আম্পায়ারের ভুল ও ডিআরএসের ‘আম্পায়ার্স কল’ আইনের জন্য পাকিস্তান হেরেছে ।

শুক্রবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর এক ম্যাচ শেষে ১ উইকেটে হেরেছে পাকিস্তান। হারিস রউফের শেষ ওভারের শেষ বলে প্রোটিয়াদের ১১তম ব্যাটার তাব্রাইজ শামসির পায়ে লাগে বল। মাঠের আম্পায়ার নট আউট দেওয়ার পর রিভিউ নেয় পাকিস্তান। কিন্তু ডিআরসের হক আই প্রযুক্তিতে ‘আম্পায়ার্স কল’ আসে সিদ্ধান্ত। বেঁচে যান শামসি। সেই সুযোগে টিকে থাকে দক্ষিণ আফ্রিকা। দুই ওভার পর আসে জয়টাও।

ম্যাচ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে হরভজন বলেন, ‘বাজে আম্পায়ারিং ও বাজে আইনের জন্য ম্যাচ হেরেছে পাকিস্তান। আইসিসির নিয়ম পরিবর্তন করা উচিত। বল স্টাম্পে লাগলে আউট, সেটা আম্পায়ার আউট দিক বা না দিক। সেটা না করলে প্রযুক্তি রাখারই দরকার কী?’

আরও পড়ুন- পাকিস্তানের সেমিফাইনালে যেতে পারে

এলবিডব্লিউয়ের আবেদনের সময় ডিআরএসের পক্ষ থেকে হক-আই প্রযুক্তির মাধ্যমে বলের গতিবিধি প্রেডিক্ট বা অনুমান করা হয়। তখন বল স্টাম্পের বাইরের অংশে লাগলে তাকে ‘আম্পায়ার্স কল’ দেখানো হয়। অর্থাৎ, মাঠের আম্পায়ার যে রায় দিয়েছেন, আউট বা নট আউট, সেই রায়ই বহাল থাকবে।

বিশ্বকাপের আগের পাকিস্তান ছিল উড়ন্ত পাখি"

বিশ্বকাপের আগে ওয়ানডে ফরম্যাটে পাকিস্তান ছিল অন্যতম ফেভারিট। বাবর আজমদের নেতৃত্বে দলটি দারুণ ছন্দে ছিল। ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়েও ছিল শীর্ষে। তবে বিশ্বকাপে ভারতের কাছে হারের পর পাকিস্তানের সেই উড়ন্ত পাখি যেন মরা মাছে পরিণত হয়েছে। এখন তারা বাদ পড়ার শঙ্কায় রয়েছে। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত পাকিস্তান খেলেছে পাঁচটি ম্যাচ। এর মধ্যে দুটিতে জয়, তিনটিতে হার। পয়েন্ট তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে তারা। বাকি চারটি ম্যাচে জিততে না পারলে তারা বাদ পড়তে পারে।

বিশ্বকাপের আগে পাকিস্তানের দলটি ছিল বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। ব্যাটিং, বোলিং সব ক্ষেত্রেই ছিল শক্তিশালী। তবে বিশ্বকাপে ভারতের কাছে হারের পর দলের মনোবল ভেঙে পড়েছে। ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা নেই। বোলিংয়েও চোখে পড়ার মতো পারফরম্যান্স নেই। পাকিস্তানের বাদ পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে কারণ দলের সামনের ম্যাচগুলো বেশ কঠিন। দক্ষিণ আফ্রিকা, বাংলাদেশ, নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলতে হবে। পাকিস্তান যদি বাদ পড়ে তাহলে এটি হবে তাদের জন্য বড় ধাক্কা। দলটি ২০১৯ সালের বিশ্বকাপেও শেষ চারে উঠতে পারেনি।

বিশ্বকাপের আগের পাকিস্তান ছিল উড়ন্ত পাখি"

টানা চার হারে এই মুহূর্তে বাজে সময় পার করছে পাকিস্তান। সবশেষ গতকাল শুক্রবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টানটান উত্তেজনার ম্যাচে ১ উইকেটে হেরে যান বাবর আজমরা। ৬ ম্যাচ থেকে এখন তাদের সংগ্রহ মোটে ২ পয়েন্ট। অবস্থা এতটাই শোচনীয়, বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে যেতে পারে তারা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার জয় তাদের ঠেলে দেবে খাদের কিনারে।

পরের ৩ ম্যাচ জিতলে ১০ পয়েন্টে পৌঁছে যাবেন বাবরেরা। তবে শুধু সেই ম্যাচ জিতলেই সেমিফাইনালে ওঠা নিশ্চিত হবে না পাকিস্তানের। পাকিস্তানের ম্যাচ বাকি বাংলাদেশ (৩১ অক্টোবর), নিউজিল্যান্ড (৪ নভেম্বর) এবং ইংল্যান্ডের (১১ নভেম্বর) বিরুদ্ধে। এদের মধ্যে নিউজিল্যান্ড আছে। কিউইদের পয়েন্ট ৮ । আর চতুর্থ স্থানে পাকিস্তানের বাকি প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। তাদের পয়েন্ট ৬। লঙ্কানদের পয়েন্ট সমান ৪ হলেও রানরেটে তারা এগিয়ে।

এই মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়া আর দুই ম্যাচ জিতলে বা শ্রীলঙ্কা যদি তিন ম্যাচ জেতে তবে পাকিস্তানের বাদ পড়ার শঙ্কাই বেশি। রানরেটে পিছিয়ে থাকার কারণে সেমির দৌড় থেকে ছিটকে যাবে তারা। আবার বাংলাদেশ যদি নিজেদের চার ম্যাচের সবকটিতে জয় পায়, তবে সেটাও হবে পাকিস্তানের ভয়ের কারণ।

সেমিফাইনালে যেতে তাই পাকিস্তানকে কেবল নিজেদের ম্যাচে জিতলেই হবে না, অস্ট্রেলিয়া এবং শ্রীলঙ্কার পাশাপাশি বাংলাদেশও যেন ১০ পয়েন্ট না পায়, সেই প্রার্থনা করতে হবে।

বাংলাদেশের দুটি পরিবর্তন নিয়ে ফিল্ডিং
টানা চার ম্যাচ হারের পর বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কা বাড়ছে বাংলাদেশের। ঘুরে দাঁড়াতে এবার ডাচদের সামনে মরিয়া সাকিবরা। শক্তিমত্তা বিবেচনায় ডাচদের চেয়ে ঢের এগিয়ে টাইগাররা। তবে তাদের সাম্প্রতিক ফর্ম চিন্তার বড় কারণ। একই সঙ্গে বাড়তি চাপও আছে সাকিবের দলের। আসরে টিকে থাকতে এই ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই তাদের। তবে টসে হেরে ফিল্ডিং করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

বাংলাদেশের একাদশে এসেছে দুই পরিবর্তন। বাদ পড়েছেন নাসুম আহমেদ ও হাসান মাহমুদ। নাসুমের জায়গায় নেয়া হয়েছে শেখ মেহেদি হাসানকে। ডানহাতি স্পিনের সঙ্গে ব্যাটটাও চালাতে পারেন তিনি। তাই ব্যাটিংয়ে বাড়তি বিকল্প পাচ্ছে দল। পেস বিভাগে হাসানের বদলি চোট কাটিয়ে দলে ফেরা তাসকিন আহমেদ

নেদারল্যান্ডস একাদশ- ম্যাক্স ও’ডাউড, বিক্রমজিৎ সিং, ওয়েসলি বারেসি, কলিন অ্যাকারম্যান, স্কট এডওয়ার্ডস, বাস ডি লিডি, সাইব্র্যান্ড এঙ্গেলব্রেখট, লোগান ফন বেক, শরিজ আহমেদ, আরিয়ান দত্ত, পল ফন মিকারেন।

বাংলাদেশ একাদশ- লিটন দাস, তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, শেখ মেহেদী হাসান, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম।

বিরাট কোহলি। গতকালও ভারতের জয়ে খেলেছেন দারুণ এক ইনিংস। ছবি: এএফপি

দিল্লি ক্যাপিটালসের ‘এক্স’ হ্যান্ডল থেকে ছবিটি পোস্ট করা হয়েছে। ক্রিজে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আঙুল উঁচিয়ে কিছু একটা দেখাচ্ছেন কোহলি। জায়ান্ট স্ক্রিনে ভেসে উঠেছে একটি লেখা, ‘ম্যায় হুঁ না ইন্ডিয়া’—অর্থাৎ, (ভেবো না) ভারত, আমি তো আছি! ছবিটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‘ভারত এই ৯৫ চিরকাল মনে রাখবে।’

বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা সবচেয়ে কম আক্রমণাত্মক শট খেলেছেন।

বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে বাজেভাবে হারের পর থেকেই আলোচনায় পাকিস্তানের ব্যাটিং। গত শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার কাছেও হারের পর আলোচনাটা আরও ডালপালা মেলেছে। বেঙ্গালুরুর অপেক্ষাকৃত ছোট বাউন্ডারিতে ডেভিড ওয়ার্নার ও মিচেল মার্শ মিলেই যেখানে ১৮টি ছক্কা মেরেছেন, সেখানে পাকিস্তানের পুরো ইনিংসে ছক্কা ছিল মাত্র ৬টি।

এর চেয়েও বড় আলোচনার বিষয় প্রথম পাওয়ারপ্লেতে (১ থেকে ১০ ওভার) পাকিস্তানের ছক্কা–খরা। বিশ্বকাপে দূরে থাক, ওয়ানডেতে এ বছরই প্রথম ১০ ওভারে কোনো ছক্কা মারতে পারেনি পাকিস্তান। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কম ছক্কা (১৫টি) মারা দলও তারা।

বিরাট কোহলি। গতকালও ভারতের জয়ে খেলেছেন দারুণ এক ইনিংসছবি: এএফপি

দিল্লি ক্যাপিটালসের ‘এক্স’ হ্যান্ডল থেকে ছবিটি পোস্ট করা হয়েছে। ক্রিজে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আঙুল উঁচিয়ে কিছু একটা দেখাচ্ছেন কোহলি। জায়ান্ট স্ক্রিনে ভেসে উঠেছে একটি লেখা, ‘ম্যায় হুঁ না ইন্ডিয়া’—অর্থাৎ, (ভেবো না) ভারত, আমি তো আছি! ছবিটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‘ভারত এই ৯৫ চিরকাল মনে রাখবে।’

Scroll to Top