৯ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১:৪০

লিড নিউজ

ব্যালট ছাড়া ইসির সব প্রস্তুতিই শেষ

বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচনে অনড় আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের একদফা দাবিতে হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি নিয়ে মাঠে রয়েছে বিএনপি ও তাদের মিত্ররা। দেশের বড় দুই রাজনৈতিক দল ও জোটের বিপরীতমুখী এমন অবস্থানের মধ্যেই নির্বাচনের সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। এখন শুধু তপশিল ও ব্যালটের অপেক্ষা। এর আগে রেওয়াজ অনুযায়ী আগামী ৯ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করবে কাজী হাবিবুল আউয়াল কমিশন।

জানা গেছে, আগামী বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তার আগে এ মাসের মাঝামাঝি সময়ে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণের মধ্য দিয়ে ভোটের তপশিল ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। এরই মধ্যে তপশিল ও ভোটের প্রায় সব প্রস্তুতিই সেরে নিয়েছে কমিশন। শুধু ব্যালট ছাপানোই এখন বাকি রয়েছে, যাকে ভোটের সর্বশেষ ধাপ বলা হয়ে থাকে। এটি সাধারণত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমার পরই ছাপানো হয়ে থাকে। সর্বশেষ গত শনিবার নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে ডেকে প্রজেক্টরের মাধ্যমে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়। ৪৪টি দলের মধ্যে ইসির ডাকে সারা দেয় ২৬টি দল।

জাতীয় নির্বাচন আয়োজনকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় বৈঠক, মতবিনিময়, কর্মশালাসহ নানা কর্মসূচিতে ব্যস্ত রয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে অন্য কমিশনাররা। গতকাল সোমবারও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কক্ষে অনানুষ্ঠানিক সভা করে কমিশন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত সময় পার করছেন ইসি সচিবালয়ের

কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। এরই মধ্যে নির্বাচনী প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শেষ হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং নির্বাচনী কর্মকর্তাদের। বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারদের (এসপি) প্রথম দফার প্রশিক্ষণ এরই মধ্যে শেষ। আগামী শুক্র ও শনিবার হবে দ্বিতীয় দফার প্রশিক্ষণ। নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় মালপত্র কেনাকাটার কাজও শেষ। ব্যালট বাক্সসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। এরই মধ্যে ঢাকা বিভাগের সব জেলায় পুলিশি নিরাপত্তায় এসব পাঠানো হয়েছে।

ইসির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার জন্য ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যেই নির্বাচন করতে হবে। ১ নভেম্বর থেকে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের ক্ষণগননাও শুরু হয়ে গেছে। তপশিল ঘোষণার জন্য ইসির হাতে খুব বেশি সময় বাকি নেই। এ অবস্থায় আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে দেশের দুই বড় রাজনৈতিক দলের মধ্যে এখনো কোনো ধরনের সমঝোতার সম্ভাবনা দেখা না গেলেও শেষ পর্যন্ত সংবিধানের পথেই হাঁটবে আউয়াল কমিশন। সেক্ষেত্রে কোনো দল নির্বাচনে না এলেও তাদের কোনো কিছু করার থাকবে না। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ভোটার সংখ্যা ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৩৩ জন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা মিলিয়ে ১০-১২ লাখের মতো জনবল বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।

সিইসিসহ অন্য কমিশনাররা এরই মধ্যে তাদের সাংবিধানিক দায়িত্বের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। সর্বশেষ গত শনিবার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বর্তমান পরিস্থিতি নির্বাচনের সম্পূর্ণ অনুকূল না হলেও কিছু করার নেই বলে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন সিইসি। বলেন, চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে কমিশনের সামর্থ্য ও ম্যান্ডেট কোনোটাই কমিশনের নেই। দলগুলোকেই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সংকট সমাধানের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। নির্বাচনের পরিস্থিতি সব সময় শতভাগ অনুকূলে থাকে না। তবু সাংবিধানিক দায়িত্ব ও শপথের কারণে কমিশনকে ভোটের আয়োজন করতে হবে।

এর আগে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেছিলেন, সংবিধান অনুযায়ী আগামী বছরের জানুয়ারির ২৯ তারিখের মধ্যে যেভাবেই হোক না কেন নির্বাচন হতে হবে। তা না হলে একটি সাংবিধানিক গ্যাপ (শূন্যতা) তৈরি হবে। সেই গ্যাপ তৈরি হলে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি হবে। সেটি নির্বাচন কমিশন হতে দিতে পারে না।

ইসি ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, প্রস্তুতি হিসেবে এরই মধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। আইনি কাঠামোর সংস্কারও হয়েছে। যদিও এতে ইসির ক্ষমতা বাড়া বা কমা নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংসদীয় আসনের পুনর্বিন্যাসের কাজ শেষ। নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার ১০টি আসনের সীমানায় পরিবর্তন এসেছে। নতুন দলের নিবন্ধন এবং নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নিরীক্ষার কাজ শেষ হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকাও প্রকাশিত হয়েছে। এবার ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ১০৩টি আর ভোটকক্ষের সংখ্যা ২ লাখ ৬১ হাজার ৯১৪টি। তবে ভোট-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণসহ আরও কিছু কাজ চলমান রয়েছে। তপশিল ঘোষণার পর ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা, আসন অনুযায়ী ভোটার তালিকার সিডি প্রস্তুত ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ঠিক করার কাজ চলছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে পর্যবেক্ষক নিবন্ধনের প্রাথমিক ধাপ শেষ। দ্বিতীয় ধাপে আরও কিছু পর্যবেক্ষক সংস্থাকে নিবন্ধন দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। চূড়ান্ত হয়েছে বিদেশি পর্যবেক্ষণ নীতিমালাও। একই সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহে মোটরসাইকেলের অনুমতি দিয়ে সাংবাদিক নীতিমালাও সংশোধন করা হয়েছে।

সাধারণত নির্বাচনী কাজের জন্য প্রায় ১১ ধরনের সামগ্রীর প্রয়োজন পড়ে। এর মধ্যে ব্যালট পেপার, স্ট্যাম্প প্যাড, লাল গালা, মনোনয়ন ফরম, অফিসিয়াল সিল, মার্কিং সিল, ব্রাশ সিল, অমোচনীয় কালির কলম, গানি ব্যাগ, হেসিয়ান ব্যাগ (বড়), হেসিয়ান ব্যাগ (ছোট) ও স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের লক রয়েছে। এরই মধ্যে ব্যালট বাক্স, বাক্সের ঢাকনা, বিভিন্ন ধরনের সিল, কালি ও ব্যাগ কেনার কাজ হয়ে গেছে। এবার ব্যালট বাক্স ও ঢাকনা দেশীয় প্রতিষ্ঠান থেকেই কিনেছে ইসি। ১ লাখ ৬১ হাজার রিম বা ৩২ লাখ ২০ হাজার দিস্তা কাগজ কেনা হয়েছে। এসব কাগজ দিয়ে তৈরি হবে ব্যালট পেপার, বিভিন্ন ধরনের খাম ও প্যাড। নির্বাচনের জন্য মোট ৮০ হাজার ব্যালট বাক্স কেনা হয়েছে যা এরই মধ্যে মাঠ পর্যায়ে পাঠানো হচ্ছে। আর তপশিল ঘোষণার পর ব্যালট পেপারের কাগজ সংগ্রহ ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর হবে মুদ্রণের কাজ।

নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে সম্প্রতি সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে ইসি। সেখানে নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি সম্ভাব্য ব্যয়ের হিসাবও তুলে ধরা হয়। এবার প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং পোলিং কর্মকর্তাদের দুই দিনের সম্মানী ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগে নির্বাচনে এক দিনের ভাতা দেওয়া হতো। পাশাপাশি জ্বালানি খরচও এবার বাড়বে। নির্বাচনী দায়িত্বে থাকবেন ৯ লাখের বেশি সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা। নির্বাচনী সরঞ্জাম কেনাকাটা, নির্বাচনে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের ভাতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ভাতা মিলিয়ে এবার প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা খরচ হবে। এর বাইরে নির্বাচনী প্রশিক্ষণে খরচ হবে ১০০ কোটি টাকার বেশি। যদিও প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ছিলেন মোট ৬ লাখ ৮ হাজার সদস্য। নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে ভোটকেন্দ্রে থাকেন পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। ভোটকেন্দ্রের বাইরে থাকে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ডের মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স। নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হলে মোট খরচ আরও বাড়বে। সশস্ত্র বাহিনীকে সাধারণত মোতায়েন করা হয় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে। তবে এবার সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। সেজন্য এ খাতে ব্যয়ও এখন পর্যন্ত ধরা হয়নি।

এবার প্রার্থীদের মনোয়নপত্র দাখিলে বাধাদান ঠেকাতে অনলাইনে জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হচ্ছে। সেইসঙ্গে ই-ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অনলাইনে জামানতের টাকাও পরিশোধের সুযোগও থাকছে। ভোটকেন্দ্রের নাম ও ভোটার নম্বর খুঁজে পাওয়ার ভোগান্তি কমাতে ‘বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যাপ’ নামে একটি অ্যাপ তৈরি করছে কমিশন। এই অ্যাপে ভোটারের তথ্যের পাশাপাশি রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, ডিসি, এসপি, ওসিসহ নির্বাচনের দায়িত্বপালনকারী কর্মকর্তাদের পরিচয়, ফোন নম্বর থাকবে।

ভোটের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ সম্প্রতি কালবেলাকে বলেন, দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ এবং সেটি সন্তোষজনক।

নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (ইটিআই) মহাপরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান বলেন, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সেপ্টেম্বরে শুরু হয়েছে প্রশিক্ষণের কাজ। ভোটের এক সপ্তাহ আগ পর্যন্ত ১০ লাখের মতো ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ ছাড়া মাঠ প্রশাসনকেও প্রশিক্ষণের আওতায় এনেছে ইটিআই। এরই মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। শুক্র ও শনিবার বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও জেলা নির্বাচনী কর্মকর্তাদের দ্বিতীয় ধাপের প্রশিক্ষণ হবে।

সৌদির উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলনে যোগ দিতে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার (৫ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি।

স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা প্রধানমন্ত্রীর। এর আগে গত বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন জানান, সৌদি নারী সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্যতম প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

এ ছাড়া মদিনায় অবস্থানকালে সন্ধ্যায় মহানবী (সা.)-এর রওজা মোবারক জিয়ারত এবং ফাতিহা পাঠ করবেন শেখ হাসিনা। আগামীকাল সোমবার সকালে ট্রেনে জেদ্দার উদ্দেশে মদিনা ত্যাগ করবেন। সন্ধ্যায় সম্মেলনে যোগ দেবেন এবং বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি ওআইসি মহাসচিব হিসেন ব্রাহিম তাহা, ইরানের নারী ও পরিবারবিষয়ক বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট এনসিহ খাজালি, ওআইসি নারী উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. আফনান আলশুয়াইবি এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে শ্রমবাজার ও বিনিয়োগ গুরুত্ব পাবে।

সম্মেলনে যোগদানের পাশাপাশি তিনি ‘উইমেন ইন ইসলাম’ শীর্ষক প্রদর্শনীর উদ্বোধন এবং তার সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন। পরে জেদ্দা থেকে মক্কায় যাবেন এবং সেখানে ওমরাহ পালন করবেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় দেশের উদ্দেশে মক্কা ত্যাগ করবেন। পরদিন ৮ নভেম্বর সকাল ৮টায় তাকে বহন করা বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে।

২৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও ১০ প্লাটুন প্রস্তুত
বিএনপি-জামায়াতের দ্বিতীয় দফায় ডাকা টানা ৪৮ ঘণ্টার অবরোধে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও স্ট্যান্ডবাই রয়েছে আরও ১০ প্লাটুন।

রোববার (৫ নভেম্বর) বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম। তিনি জানান, রোববার অবরোধের প্রথম দিন সকাল থেকে তাদের মোতায়েন করা হয়। এ ছাড়া স্ট্যান্ডবাই রয়েছে আরও ১০ প্লাটুন। ঢাকার পাশাপাশি তাদের সাভার ও গাজীপুর এলাকায় টহল দিতে দেখা গেছে।

এর আগে বিএনপি-জামায়াতের টানা তিন দিনের অবরোধেও বিজিবি ও বিজিবির বিশেষায়িত বিজিবি-র‌্যাপিড অ্যাকশন টিমের (র‍্যাট) সদস্যদের টহল দিতে দেখা গিয়েছিল। এদিকে শনিবার সন্ধ্যা থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত সাড়ে ১১ ঘণ্টায় ৯টি বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম রোববার সকালে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘শনিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রোববার সকাল ৬.৩০ পর্যন্ত ১২টি উচ্ছৃঙ্খল জনতা কর্তৃক আগুনের সংবাদ পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ঢাকা সিটিতে সাতটি, ঢাকা বিভাগে (নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর) দুটি, রাজশাহী বিভাগে (সিরাজগঞ্জ) একটি, বরিশালে (চরফ্যাশন) একটি, রংপুরে (পীরগঞ্জ) একটি ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৯টি (১০টি) বাস, একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয় পুড়ে যায়।’

ফায়ার সার্ভিস জানায়, রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকার গাউছিয়া মার্কেটের সামনে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মিরপুর লিংক নামের বাসে আগুন দেওয়া হয়। সন্ধ্যা সাতটা ৩৫ মিনিটে এলিফ্যান্ট রোডে গ্রিন ইউনিভার্সিটির বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া সন্ধ্যা সাতটা ৫৫ মিনিটে সায়েদাবাদের জনপথ মোড়ে রাইদা পরিবহনের বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

বাহিনীটি জানায়, রাত ১০টার দিকে গুলিস্তানের পাতাল মার্কেটের সামনে মনজিল পরিবহনের বাসে আগুন লাগানো হয়।

ঢাকার বাইরের আগুনের ঘটনাগুলো নিয়ে ফায়ার সার্ভিস জানায়, রাত ১১টা ৪২ মিনিটে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় অনাবিল পরিবহনের বাসে আগুন দেওয়া হয়। রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে ভোলার চরফ্যাশনের নতুন বাস স্ট্যান্ডে যমুনা এক্সপ্রেস নামে বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।

গভীর রাতে ২টা ৫৫ মিনিটে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের বাদলপুরে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়। রাত তিনটা ৫২ মিনিটে রংপুরের পীরগঞ্জের তিন রাস্তার মোড়ে গাড়ির পরিত্যক্ত টায়ারে আগুন দেওয়া হয়।

এদিকে রোববার ভোররাত চারটায় ঢাকার মাতুয়াইলের সাদ্দাম মার্কেটে বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। একই সময়ে জুরাইনের বালুর মাঠ এলাকায় তুরাগ পরিবহনের বাসে আগুনের ঘটনা ঘটে।

ভোররাত পাঁচটা ১৭ মিনিটে ঢাকার মিরপুর ৬ নম্বরে বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। সকাল ৬টা ২৪ মিনিটে গাজীপুরের ভোগরায় বাসে আগুনের ঘটনা ঘটে।

সংঘাত ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রাজনীতি

দেশের রাজনীতি সংঘাতে ঢুকে পড়েছে। নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার, রিমান্ডের মুখে অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে বিএনপি। সরকারও কঠোর থেকে আরও কঠোর হচ্ছে। দুই পক্ষ এখন সংলাপ ও সমঝোতার বা কোনো ছাড় দেওয়ার মানসিকতায় নেই। জাতীয় নির্বাচনও ঘনিয়ে আসছে। তবে রাজনীতিতে সংঘাত, অনিশ্চয়তা বাড়ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন।

নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়ে বিরোধ থেকে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছিল। এই উত্তেজনার পর গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে ঘটেছে সহিংসতা, প্রাণহানি। এমন পরিস্থিতির জন্য একে অপরকে দায়ী করেছে বিএনপি ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

তবে পরদিনই বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা থেকে শুরু করে মাঠের নেতাদের একের পর এক গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এমনকি জ্যেষ্ঠ নেতাদের রিমান্ডেও নেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতির মুখে বিরোধী দল হরতালের পর অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগপর্যন্ত বিএনপির নেতা–কর্মীদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রাখবে সরকার। একাধিক মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে এমন ধারণা পাওয়া গেছে। তাঁদের যুক্তি হচ্ছে, ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় প্রাণহানি ঘটেছে। সে কারণে ঘটনার ব্যাপারে মামলায় এসব গ্রেপ্তার হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপি সহিংসতার পথে নেমেছে। ফলে সহিংস ঘটনার ব্যাপারে সরকারকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে। নির্বাচন পর্যন্ত সহিংসতার বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান থাকবে।

কিন্তু ক্ষমতাসীনদের কেউ কেউ বলছেন, মহাসমাবেশ পণ্ড হওয়ার পর নেতাদের গ্রেপ্তার করে বিএনপিকে চাপে ফেলা বা কোণঠাসা করা তাদের অন্যতম লক্ষ্য। সরকার যখন কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা বলছে, তখন অবরোধের মতো কর্মসূচি অব্যাহত রেখে বিএনপিও বলছে, এ ধরনের কর্মসূচি দেওয়া ছাড়া তাদের সামনে বিকল্প নেই।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রথম আলোকে বলেন, সরকার বিরোধী দলের নেতা–কর্মীদের গ্রেপ্তার, রিমান্ডে নেওয়াসহ দমন–নিপীড়ন বাড়িয়ে দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেই সংঘাত সৃষ্টি করা হচ্ছে। ক্ষমতাসীনদের এমন আচরণের মুখে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া ছাড়া তাঁদের পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই।

বিশ্লেষকেরা মনে করেন, রাজনীতি এখন সংঘাতময় হয়ে উঠেছে। মহাসমাবেশের পরও অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘাত হচ্ছে। যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটছে। যদিও কোনো পক্ষই এসব ঘটনার দায় নিচ্ছে না। তবে অনিশ্চয়তা থেকেই পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক এম সাখাওয়াত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাজনীতিতে সংঘাত, উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা বেড়েই চলেছে। দুই পক্ষের কেউই তা উপলব্ধি করছে না।’

সংলাপ–সমঝোতার মানসিকতায় নেই কোনো পক্ষ

টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ তাদের অধীনেই নির্বাচন করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে। আর বিএনপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় সরকার ছাড়া নির্বাচন না করার অবস্থানে অটল রয়েছে। দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের মুখে রাজনীতি এখন সংঘাত ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। কিন্তু কোনো পক্ষ থেকেই ছাড় দেওয়ার কোনো লক্ষণ নেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, বিপরীতমুখী অবস্থানে থাকা দুই দল কোনো চাপে না পড়লে নিজেরা আলোচনায় বসে সমাধান করতে পারবে, তাদের সেই মানসিকতা নেই। তারা সে ধরনের পরিস্থিতিও রাখেনি। এ ছাড়া সংঘাত ও অনিশ্চয়তার ব্যাপারে দুই দল কতটা উপলব্ধি করছে, এ নিয়েও সন্দেহ রয়েছে বিশ্লেষকদের।

অন্যদিকে অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর তৎপরতা রয়েছে। ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস কয়েক দিন আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের কাছে বলেছিলেন, শর্তহীনভাবে সব পক্ষ সংলাপে বসে সমাধান করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন মহল থেকে আলোচনা–সমঝোতার কথা বলা হচ্ছে। দুই দল তা আমলে নিচ্ছে না বলে মনে হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ বলে আসছে, তাদের সরকারের অধীনে নির্বাচন করার ব্যাপারে বিএনপি রাজি হলে তখন সংলাপ হতে পারে। ক্ষমতাসীনেরা এখন বিএনপির মহাসমাবেশকে ঘিরে সহিংসতার বিষয়কেও তুলে ধরে সংলাপের সম্ভাবনা নাকচ করছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও গত বৃহস্পতিবার সংসদে বক্তব্যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের সংলাপের সম্ভাবনা আবারও নাকচ করে দিয়েছেন।

বিএনপি নেতারা বলছেন, সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকেও সংলাপ নিয়ে যে বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, তাতে সরকার আবারও একতরফা নির্বাচন করতে চাইছে বলে তাঁরা মনে করছেন। তবে বিএনপিও নির্দলীয় সরকারের দাবির ব্যাপারে সরকার একমত না হওয়া পর্যন্ত কোনো সংলাপে যেতে রাজি নয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, দুই পক্ষের তিক্ততা, উত্তেজনার রাজনীতি যে সংঘাতে গড়িয়েছে, তাতে দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের ওপরই নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সাবেক নির্বাচন কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সরকারের দিক থেকেই নমনীয় হয়ে সংকটের সমাধান করা প্রয়োজন। কিন্তু সরকার যখন নিষ্ঠুরতা দেখাচ্ছে, তখন অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।

ভূমিকম্পে কাঁপল নেপাল, নিহত বেড়ে ১২৮

নেপালে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৮ জন। আহত অনেকে। দেশটির কর্মকর্তারা এই তথ্য জানিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার মধ্যরাতে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের কর্নালি প্রদেশের জাজারকোট এলাকায় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

নেপালের ন্যাশনাল সিসমোলজিক্যাল সেন্টার জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে জাজারকোট এলাকায় ভূমিকম্পটি হয়। ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৪। পার্বত্য জাজারকোট এলাকাটি নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৬। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থলের গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৮ কিলোমিটার নিচে।

অন্যদিকে, জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্স বলেছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। পুলিশের মুখপাত্র কুবের কাদায়ত বলেন, জাজারকোটে ৯২ জন ও রুকুমে ৩৬ জন নিহত হয়েছে। কর্নালি প্রদেশ পুলিশের কর্মকর্তা গোপাল চন্দ্র ভট্টরাই বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, নিহতের সংখ্যা শতাধিক। আহতও হয়েছেন অনেকে।

কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। জাজারকোট জেলার কর্মকর্তা হরিশ চন্দ্র শর্মা ফোনে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আহতের সংখ্যা শতাধিক হতে পারে। নিহতের সংখ্যাও বাড়তে পারে।’ উপদ্রুত এলাকাগুলো দুর্গম-প্রত্যন্ত হওয়ায় হতাহতসহ ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়াটা কঠিন বলে মন্তব্য করেন পুলিশের কর্মকর্তা গোপাল চন্দ্র। গোপাল চন্দ্র বলেন, ভূমিকম্পের কারণে রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় তাঁরা বিকল্প পথ দিয়ে অকূলস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় কর্মকর্তারা বলেন, ভূমিকম্পের কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা ছবি-ভিডিওতে দেখা যায়, ভূমিকম্পে অনেক ঘরবাড়ি-ভবন ধসে পড়েছে। রাতের অন্ধকারে ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা লোকজনকে বের করার চেষ্টা করছেন স্থানীয়রা।

ভূমিকম্পে আহত হওয়া ব্যক্তিতে ভরে গেছে জেলা হাসপাতাল। ভূমিকম্পে জানমালের ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দাহাল। এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে তাৎক্ষণিক উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। ২০১৫ সালে নেপালে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। এতে প্রায় ৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল। আহত হয়েছিল ২২ হাজারের বেশি মানুষ। ভূমিকম্পে পাঁচ লাখের বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছিল।

নোয়াখালীর যুবককে গুলি করে হত্যা
লিবিয়াতে এক অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাংলাদেশী এক প্রবাসী যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে।

নিহত জগদীশ চন্দ্র দাস (৩৬) নোয়াখালী সেনবাগ উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মোহাম্মদপুর গ্রামের সাহাজীরহাট দাস পাড়ার গোকুল চন্দ্র দাসের ছেলে।

শুক্রবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করে মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফিরোজ আলম রিগান। এর আগে, গতকাল বৃহস্পতিবার ২ নভেম্বর বাংলাদেশ সময় দুপুরের দিকে লিবিয়ায় সাফা এলাকায় তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তার টাকা পয়সা ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

নিহতের বাবা গোকুল চন্দ্র দাস জানায়, জগদীশ ৬ বছর আগে জীবিকার তাগিদে লিবিয়ায় সাফা এলাকায় পাড়ি জমায়। সে এক সন্তানের জনক ছিল। সেখানে সে সবজিও নার্সারিতে বিভিন্ন ফল-ফুলের গাছ চাষ করত। কয়েক দিন আগে মালিকের ভাতিজার ছাগলের পাল জগদীশের নার্সারির প্রচুর গাছ নষ্ট করে। এ নিয়ে সে যে মালিকের অধীনে কাজ করে তার ভাতিজাকে একাধিকবার অভিযোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, গত কিছু দিন আগে জগদীশ মালিকের ভাতিজাকে বলেন দাদা দেখেন আপনার ছাগল আমার নার্সারির কতগুলো গাছ নষ্ট করে পেলেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে মালিকের ভাতিজা তার কয়েকটি ছাগল খুঁজে পাচ্ছেনা বলে অভিযোগ তুলে। পরবর্তীতে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে জগদীশ খেতে বসলে মালিকের ভাতিজা আকস্মিক এসে তাকে গুলি করে হত্যা করে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে লিবিয়ায় থাকা আমার ছোট ছেলে সন্তোষ মুঠোফোনে তার বড় ভাইয়ের মৃত্যুর বিষয়টি আমাদেরকে নিশ্চিত করেন।

সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিসান বিন মাজেদ বলেন, বিষয়টি আমাদেরকে অবহিত করা হয়নি। তবে নিহতের পরিবার অফিসিয়ালি সহযোগিতা চাইলে আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করব।

বাংলাদেশের জন্য সকল ভিসা বন্ধ করলো ওমান

অনির্দিষ্টকালের জন্য বাংলাদেশিদের জন্য সব ধরণের ভিসা বন্ধ করেছে ওমান। মঙ্গলবার দেশটির রয়্যাল ওমান পুলিশের বরাত দিয়ে ওমান অবজারভার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এক বিবৃতিতে রয়্যাল ওমান পুলিশ জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত মঙ্গলবার থেকেই কার্যকর হবে।

বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সকল দেশের নাগরিকের জন্য ভিসা পরিবর্তন সেবা বন্ধ থাকবে। আর বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব ক্যাটাগরির ভিসাই অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।

এক্ষেত্রে ভিসা নবায়নের সেবা কার্যক্রম আগের নিয়মেই চালু থাকবে, তবে ভিসা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পূর্বের মত ওমানে থেকেই এই সুবিধা নেয়া যাবেনা। কেউ ভিসা পরিবর্তন করতে চাইলে তাকে দেশে ফিরে পুনরায় নতুন ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। তবে বাংলাদেশিরা আপাতত নতুন ভিসার আবেদন করতে পারবেন না।

ব্রাসেলসে ‘গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরাম’ সম্মেলনে যোগদান পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ মঙ্গলবার বিকেলে গণভবনেছবি: পিআইডি

খুনিদের সঙ্গে কিসের সংলাপ, সে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, সময়মতোই নির্বাচন হবে। কে চোখ রাঙাল আর কে চোখ বাঁকাল, তা নিয়ে পরোয়া করেন না।

ব্রাসেলসে ‘গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরাম’ সম্মেলনে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা জানাতে আজ মঙ্গলবার বিকেলে গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে আসেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে প্রশ্নোত্তরে এ কথা বলেন তিনি।

হলি আর্টিজান হামলার ৭ জঙ্গির সাজা কমলো

আলোচিত রাজধানীর গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা ও নৃশংস হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৭ জঙ্গির সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে হাই কোর্ট।

সোমবার (৩০ অক্টোবর) বিচারপতি সহিদুল করিম ও বিচারপতি মো.মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া আসা‌মিরা হলেন- জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধী, আসলাম হোসেন ওরফে র‌্যাশ, আব্দুস সবুর খান, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, হাদিসুর রহমান, শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ ও মামুনুর রশিদ। রায়ে আদালত বলেছেন, আসামিরা স্বাভাবিক মৃত্যু না হওয়া কারাগারেই থাকবেন। এর আগে বেলা ১১টা ২৮ মিনিটে রায় পড়া শুরু হয়। রায়ের সংক্ষিপ্ত অংশ পাঠ করেন বেঞ্চের জুনিয়র বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

রায় ঘোষণার সময় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ, সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল নির্মুল কুমার দাশ উপস্থিত ছিলেন।  এছাড়া আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট আমিমুল এহসান জুবায়ের উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত ১১ অক্টোবর আলোচিত এ মামলায় সাতজনের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন) ও আসামিদের আপিল শুনানি শেষ হয়।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে হামলা চালিয়ে বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির (আত্মঘাতী) সদস্যরা। তাদের গুলিতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। পরে কমান্ডো অভিযানে নিহত হন পাঁচ জঙ্গি।

এ ঘটনার মামলায় ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান একজনকে খালাস দিয়ে সাতজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। ফৌজদারি মামলায় বিচারিক আদালত যখন আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দেন তখন ওই দণ্ড কার্যকরের জন্য হাইকোর্টের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। এজন্য সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা মোতাবেক মামলার সব নথি হাইকোর্টে পাঠিয়ে দেন। যা ডেথ রেফারেন্স নামে পরিচিত। ওই নথি আসার পর হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংশ্লিষ্ট মামলার পেপারবুক প্রস্তুত করে।

সে অনুযায়ী ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়।  দে‌শের ই‌তিহা‌সে অন্যতম নৃশংস এ হামলায় ৯ জন ইতালীয়, ৭ জন জাপানি, একজন ভারতীয়, একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান দ্বৈত নাগরিক ও দুজন বাংলাদেশিসহ মোট ২০ জনকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সন্ত্রাসীদের গ্রেনেডের আঘাতে প্রাণ হারান বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন আহমেদ ও সহকারী পুলিশ কমিশনার রবিউল ইসলাম।

হামলার পর জিম্মি অবস্থার অবসানে সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে নিহত হয়েছিলেন পাঁচ জঙ্গি। তারা হলেন- মীর সামেহ মোবাশ্বের, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ ওরফে মামুন, নিবরাস ইসলাম, খায়রুল ইসলাম পায়েল ও শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল।

এছাড়া বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছেন নব্য জেএমবির আরও ৮ সদস্য। তাদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবুল হাসনাত রেজা করিমও অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পান।

ওই ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গুলশান থানায় একটি মামলা করেন ওই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রিপন কুমার দাস। পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির মামলাটি তদন্ত করে ২০১৮ সালের ১ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আটক করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) মিন্টো রোডের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৯ অক্টোবর) ফখরুলকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার(ডিসি) মো. ফারুক হোসেন।  তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, গতকালকের পুলিশ হত্যা, আগুন, রাজারবাগ হাসপাতালে অগ্নিসংযোগসহ অন্তত ডজনখানেক মামলা হবে। এসব ঘটনায় যে কোনো মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।

সকাল ৯ টা ৫০ মিনিটে বিএনপি মহাসচিবকে রাজধানীর মিন্টু রোডে অবস্থিত ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। এ বিষয়ে ডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে।

এর আগে বিএনপি মহাসচিবের আটকের বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে জানান দলের চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান। তিনি বলেন, সকাল ৯টার আগে থেকে মহাসচিবের গুলশানের বাসার সামনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেয়। পরে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ।

আটকের পর মির্জা ফখরুলের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম বলেন, সকালে ডিবি পুলিশের লোকজন বাসায় আসে, মির্জা ফখরুল ইসলামসহ বাসার সবার সঙ্গে কথা বলে। এরপর সিসি ক্যামেরার ফুটেজসহ হার্ড ডিস্ক নিয়ে ভবনের নিচে চলে যায়। ঠিক দশ মিনিট পর আবার ফিরে এসে মির্জা ফখরুলকে আটক করে নিয়ে যায় তারা।

তিনি আরও বলেন, মির্জা ফখরুল প্রচণ্ড অসুস্থ, তার চিকিৎসা চলছিল। এভাবে নিয়ে যাবে মেনে নিতে পারছি না, ৭৫ বছর বয়স্ক মানুষ। আশা করবো যদি জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায়, তা করে যেন তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। বাঁশের মাধ্যমে ব্যারিকেড দিয়ে কার্যালয়ের সামনের অংশকে ক্রাইম সিন ঘোষণা করা হয়েছে। কাউকে ঢুকতে বা বের হতে দেওয়া হচ্ছে না।

সকালে নয়াপল্টনে সরেজমিনে দেখা গেছে, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়য়ের প্রধান ফটকের সামনে ‘ক্রাইম সিন’ উল্লেখ করে কর্ডন টেপ দিয়ে মুড়িয়ে দিয়েছে সিআইডি। তার দুই পারে দাঁড়িয়ে রয়েছেন অসংখ্য পুলিশ সদস্য।

এর আগে শনিবার বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীসহ আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দল সমাবেশ করেছে। এসময় পুলিশি বাধার মুখে বিএনপির নয়াপল্টনের মহাসমাবেশ পণ্ড হয়ে যায়। ধাওয়া খেয়ে নেতাকর্মীরা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে নয়াপল্টন ও পুরানা পল্টন মোড় এবং আশপাশের অন্যান্য স্থানে বিএনপি-পুলিশ-আওয়ামী লীগ ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। এসব ঘটনায় বিএনপির বহু নেতাকর্মীর পাশাপাশি পুলিশ ও সাংবাদিকরা আহত হয়েছেন।

এ সময় প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। আমিনুল নামে এক পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যাও করা হয়। এ ঘটনায় পল্টন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।

Scroll to Top