১৩ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৩:২৪

প্রবাস

প্রবাসীদের জন্য সংসদে সংরক্ষিত আসন চেয়ে রিট

প্রবাসীদের জন্য জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসন চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছে আমেরিকায় বসবাস করা দুই প্রবাসী। রিট আবেদনের পক্ষে আইনজীবী হচ্ছেন অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম।

গত বুধবার (১ নভেম্বর) এই রিট করেছেন প্রবাসী আবুল কালাম আজাদ ও এস এম রফিকুল পারভেজ। রিট আবেদনে আসন সংরক্ষণের দাবিতে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো একটি আবেদন নিষ্পত্তির ও নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ১৫ অক্টোবর জনৈক আবুল কালাম আজাদ ও এস এম রফিকুল পারভেজ ‘প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী প্রবাসীদের মধ্যে থেকে নিয়োগ করাসহ জাতীয় সংসদে প্রবাসীদের জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক আসন সংরক্ষণের আবেদন’ শীর্ষক একটি আবেদন লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব বরাবরে দেন।

মন্ত্রণালয়ে পাঠানো আবেদনে বলা হয়, আমরা আবুল কালাম আজাদ ও এস এম রফিকুল পারভেজ বাংলাদেশের নাগরিক আমেরিকা প্রবাসী, বাংলাদেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধা। বাংলাদেশের সব মানুষের মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার সমগোত্রীয় এবং মৌলিক অধিকারের অন্তর্গত নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিক আইনগত সংবিধানগতভাবে সুরক্ষিত অধিকার সমানভাবে ভোগ করবে। কিন্তু প্রায় আড়াই কোটি প্রবাসী বাংলাদেশি অন্যান্য নাগরিকের মতো সমান সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন না।

আবেদনে আরও বলা হয়, রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসীদের জন্য সংসদের আসন সংরক্ষণ না করাকে বৈষম্যমূলক আচরণ বলে। বৈষম্যমূলক আচরণ বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭, ২৮ ও ২৯ অনুচ্ছেদে বর্ণিত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি । রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী পুরুষের সমান অধিকার লাভ করবেন। কিন্তু প্রবাসী ভাইবোনরা সমান অধিকার ভোগ করতে পারছেন না।

প্রবাসী ভাইবোনরা দেশে বিদেশে বহুবিধ সমস্যায় জর্জরিত। প্রবাসীদের কথা বলার জন্য মহান সংসদে কোনো প্রতিনিধি নেই। তাই প্রবাসীদের জন্যও সংসদে আসন সংরক্ষণ করা হোক। তাই প্রবাসীদের জন্য সংসদে নির্দিষ্ট আসন সংরক্ষণ করার আবেদন যৌক্তিক ও ন্যায়সংগত আবেদন।

এই আবেদনে সাড়া না পেয়ে তারা ১ নভেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন।

কানাডার স্বপ্নে নিঃস্ব বাচ্চুর পরিবার

ঢাকায় মুদি ব্যবসা করতেন বাচ্চু চৌধুরী। তার ছেলে মাস্টার্স পাস ইমতিয়াজ চৌধুরী ছিল বেকার। কানাডায় লাখ লাখ বেতনের সঙ্গে নানা সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখানো হয় তাদের। প্রস্তাবে রাজি হয়ে সম্পদ বিক্রি, ব্যাংক লোন এমনকি ধারদেনা করে ৭৫ লাখ দেন। ছেলে ইমতিয়াজকে ভুয়া কাগজপত্রও দেওয়া হয়। অন্যদিকে বাবা বাচ্চুকে কানাডার পরিবর্তে সৌদি আরবে নিয়ে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করা হয়। কানাডায় যেতে না পেরে এভাবেই স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে পিতা-পুত্রের। পাশাপাশি নিঃস্ব হয়েছে গোটা পরিবার।

বাচ্চুর স্ত্রী আলেয়া খানম দৈনিক কালবেলাকে বলেন, এমনভাবে লোভ দেখানো হয়েছে, কিছুই বুঝতে পারিনি। স্বামী ও ছেলেকে কানাডায় পাঠাতে নিজেদের সম্পদ বিক্রি করেছি, লোনও নিয়েছি। এ ছাড়া আত্মীয়স্বজন ও অন্য মানুষের থেকে সুদে টাকা নিয়েও তাদের দিয়েছি; কিন্তু আমার স্বামীকে সৌদি আরবে নিয়ে জিম্মি করা হয়। তাকে নির্যাতন করে মুক্তিপণ নিয়েও শেষ পর্যন্ত কানাডা পাঠায়নি। এখন তার কোনো খোঁজই পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি আরও জানান, সুখের জন্য তাদের কানাডায় পাঠাতে চেয়েছিলাম। ছেলে যেতে পারেনি আর স্বামীর কোনো খোঁজ নেই। যাদের থেকে টাকা ধার নিয়েছি, তারা প্রতিনিয়ত বাড়িতে আসছে। অনেক টাকা কিস্তি দিতে হয়। নিজেদের বাড়িতে থাকতে পারি না। তালা দিয় অন্যের বাড়িতে থাকি। এমন দুঃস্বপ্নের দিন আসবে কল্পনাও করিনি। ছেলে ইমতিয়াজ চৌধুরী বলেন, অনেক স্বপ্ন ছিল ইউরোপ যাব; কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। বাবার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। আমাকে কানাডার ভুয়া কাগজপত্র দেওয়া হয়। যে কারণে বিমানবন্দর থেকে ফিরে এসেছি। আমাদের সাজানো-গোছানো সংসার ধ্বংস হয়ে গেছে।

স্বামীর খোঁজ না পেয়ে গত ৪ অক্টোবর স্ত্রী আলেয়া খানম বাদী হয়ে ছয়জনের বিরুদ্ধে ঢাকার মানব পাচার অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলার আবেদন করেন। তার জবানবন্দি গ্রহণ করে উত্তরা পশ্চিম থানাকে আবেদনটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করতে নির্দেশ দেন আদালত। মামলার আসামিরা হলো রাজিব কাজী, বসির মাতুব্বর, কাজী আনোয়ার হোসেন, দিল আফরোজা রুনা, কাজী রুহুল আমিন ও জহিরুল ইসলাম। এর মধ্যে রাজিব ও জহিরুল কারাগারে রয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২২ সালের ১৭ আগস্ট রাজধানীর দক্ষিণ খান থানাধীন কে এ ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস অফিসে উপস্থিত হয়ে প্রতারক চক্রের মূলহোতা বসির মাতুব্বরকে ৮ লাখ টাকা দেন। পরে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকে ও নগদে মোট ৭৫ লাখ ৩৩ হাজার টাকা গ্রহণ করে চক্রটি। গত ১৫ মে তারা বাচ্চুকে কানাডায় পাঠানোর কথা বলে সৌদি আরবে নিয়ে যায়। সেখানে সৌদিপ্রবাসী কাজী আনোয়ার হোসেন ও তার লোকজন তাকে আটক রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। বাচ্চুর মাধ্যমে ফোন দিয়ে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা না দিলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। নিরুপায় হয়ে আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধারদেনা করে ৩ লাখ টাকা পাঠায় জিম্মির পরিবার। টাকা দেওয়ার পর এক সপ্তাহের মধ্যে কানাডায় পাঠিয়ে দেবে বলে আশ্বস্ত করে। তারপর বাচ্চুকে কানাডায় পাঠানো হয়নি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক মো. ফারুক মিয়া কালবেলাকে বলেন, ভুক্তভোগী বাচ্চু চৌধুরীকে সৌদি আরবে নিয়ে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করা হয়। এ ঘটনায় মামলার পর দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সব তথ্য-উপাত্ত নিয়ে তদন্ত চলছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। প্রতারক চক্রটি বিভিন্ন মানুষকে টার্গেট করে কানাডার নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখায়। পরে ফাঁদে ফেলে মুক্তিপণ আদায় করে। চক্রের মূলহোতা বসির দেশের বাইরে রয়েছে।

মালয়েশিয়ার মোনাশ ইউনিভার্সিটিতে স্কলারশিপ, আইএলটিএসে ৬.৫ হলে আবেদন

মালয়েশিয়ার মোনাশ ইউনিভার্সিটি বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে তিন বছর মেয়াদি পিএইচডি প্রোগ্রামের সুযোগ দিচ্ছে। গ্লোবাল এক্সিলেন্স এবং মোবিলিটি স্কলারশিপ বা জিইএমএস নামের এ স্কলারশিপে পিএইচডি প্রোগ্রাম হবে মোনাশ ইউনিভার্সিটির মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া ক্যাম্পাসে। এর মধ্যে প্রথম ৩০ মাস মালয়েশিয়া ক্যাম্পাসে এবং পরের ১২ মাস অস্ট্রেলিয়ার ক্যাম্পাসে। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা এ স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

এ বৃত্তির সুবিধাগুলো—
*সম্পূর্ণ বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ;

*জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে প্রথম ৩০ মাস মালয়েশিয়া থাকার সময়ে প্রতি মাসে ২৮০০ রিঙ্গিত মিলবে;

*পরের ১২ মাস অস্ট্রেলিয়া থাকার সময়ে প্রতি মাসে ৮ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত দেওয়া হবে;

*মালয়েশিয়া থেকে প্রোগ্রাম শেষ করে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার সময় মিলবে আলাদা ভ্রমণ ভাতা।

আবেদনের যোগ্যতা—
*স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হতে হবে আবেদনকারীকে;

*একাডেমিক ফলাফল ভালো হতে হবে;

*ইংরেজি ভাষায় দক্ষ হতে হবে;

*আইএলটিএসে স্কোর ৬ দশমিক ৫ থাকতে হবে। প্রতিটি সেকশনে অন্তত ৬ করে থাকতে হবে;

* ভাষা দক্ষতার সনদ;

*দুটি রেফারেন্স লেটার;

*রিসার্চ প্রপোজাল

*আপনি কেন এ প্রোগ্রামের জন্য উপযুক্ত, তার ব্যক্তিগত বিবৃতি ৩০০ শব্দে লিখতে হবে।

আবেদনের শেষ সময়
আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩

আবেদনের প্রক্রিয়া
আগ্রহীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন করতে এবং বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন

নোয়াখালীর যুবককে গুলি করে হত্যা
লিবিয়াতে এক অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাংলাদেশী এক প্রবাসী যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে।

নিহত জগদীশ চন্দ্র দাস (৩৬) নোয়াখালী সেনবাগ উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মোহাম্মদপুর গ্রামের সাহাজীরহাট দাস পাড়ার গোকুল চন্দ্র দাসের ছেলে।

শুক্রবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করে মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফিরোজ আলম রিগান। এর আগে, গতকাল বৃহস্পতিবার ২ নভেম্বর বাংলাদেশ সময় দুপুরের দিকে লিবিয়ায় সাফা এলাকায় তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তার টাকা পয়সা ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

নিহতের বাবা গোকুল চন্দ্র দাস জানায়, জগদীশ ৬ বছর আগে জীবিকার তাগিদে লিবিয়ায় সাফা এলাকায় পাড়ি জমায়। সে এক সন্তানের জনক ছিল। সেখানে সে সবজিও নার্সারিতে বিভিন্ন ফল-ফুলের গাছ চাষ করত। কয়েক দিন আগে মালিকের ভাতিজার ছাগলের পাল জগদীশের নার্সারির প্রচুর গাছ নষ্ট করে। এ নিয়ে সে যে মালিকের অধীনে কাজ করে তার ভাতিজাকে একাধিকবার অভিযোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, গত কিছু দিন আগে জগদীশ মালিকের ভাতিজাকে বলেন দাদা দেখেন আপনার ছাগল আমার নার্সারির কতগুলো গাছ নষ্ট করে পেলেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে মালিকের ভাতিজা তার কয়েকটি ছাগল খুঁজে পাচ্ছেনা বলে অভিযোগ তুলে। পরবর্তীতে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে জগদীশ খেতে বসলে মালিকের ভাতিজা আকস্মিক এসে তাকে গুলি করে হত্যা করে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে লিবিয়ায় থাকা আমার ছোট ছেলে সন্তোষ মুঠোফোনে তার বড় ভাইয়ের মৃত্যুর বিষয়টি আমাদেরকে নিশ্চিত করেন।

সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিসান বিন মাজেদ বলেন, বিষয়টি আমাদেরকে অবহিত করা হয়নি। তবে নিহতের পরিবার অফিসিয়ালি সহযোগিতা চাইলে আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করব।

শ্রমিকদের কাজের সুযোগ দিতে চায় মালয়েশিয়া

বিভিন্ন অপরাধে কারাভোগ করা বিদেশি শ্রমিকদের কাজের সুযোগ দিতে চায় মালয়েশিয়া সরকার। বিদেশি কর্মীদের ঘাটতি পূরণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাবছে দেশটি।

মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) সংসদে মানবসম্পদ মন্ত্রী ভি. শিবকুমার বলেন, সাজা শেষ হওয়া অভিবাসীরা, বিশেষ করে যারা ছোটখাটো অপরাধের জন্য কারাভোগ করেছেন তারা এখনো কাজ করতে সক্ষম।

তিনি বলেন, আমরা বিদেশি শ্রমিকদের ঘাটতি পূরণে তাদের (পূর্বে অভিযুক্ত) কাজে লাগাতে পারি। এক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় তাদের সামাজিক নিরাপত্তা সংস্থার (সকসো) মাধ্যমে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে।

সংসদে আরএসএন রেয়ারের (পিএইচ-জেলুটং) একটি সম্পূরক প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়, সাজা শেষ হওয়া বিদেশি কর্মীদের কাজের সুযোগ দিতে নিয়োগকর্তা এবং কারাগারের মধ্যে সহায়ক কোনো পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে কি না? জবাবে মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে সাজা শেষ হওয়া অনেক বিদেশি শ্রমিককে পুনরায় কাজের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কারাগারে বন্দিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং যখন তারা বেরিয়ে আসে, তারা শ্রমে যুক্ত হতে পারে।

মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকের সংখ্যা নিয়ে দাতুক আওয়াং হাশিমের (পিএন-পেন্ডং) এক প্রশ্নের জবাবে শিবকুমার বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট সংখ্যা ২৭ লাখ ৩০ হাজার ১৫৩ ছিল।

তাদের মধ্যে ১৮ লাখ ৩০ হাজার ৮২৮ জন সক্রিয় অস্থায়ী ভিসাধারী, ১ লাখ ৫২ হাজার ১৫৮ জনের ভিসা প্রক্রিয়াধীন, যারা এখনো মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে পারেনি এবং ৭ লাখ ৪৭ হাজার ১৬৭ জন অবৈধ অভিবাসীকে ওয়ার্কফোর্স রিক্যালিব্রেশন প্রোগ্রাম ২.০ এর অধীনে নিবন্ধিত করা হয়েছে।

বিদেশি কর্মীদের মাধ্যমে কিছু নির্দিষ্ট খাতের শ্রম চাহিদা মেটানো হয়, যা স্থানীয় কর্মীদের মাধ্যমে পূরণ করা কঠিন। তাই বিদেশি কর্মী অধ্যুষিত খাতগুলোতে স্থানীয় কর্মীদের কাজে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মাধ্যমে নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে মালয়েশিয়া সরকার।

অন্যদিকে মন্ত্রণালয় কারখানাগুলোকে স্বয়ংক্রিয়করণ, যান্ত্রিকীকরণ এবং ডিজিটালাইজেশনের ব্যবহারে উৎসাহিত করছে। যার মাধ্যমে উচ্চ-দক্ষ কর্মীদের চাহিদা তৈরি করতে পারে এবং ধীরে ধীরে স্বল্পদক্ষ বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরতা হ্রাস করা সম্ভব হবে।

রাজধানীতে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী নিহত

মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।পুলিশ আহত অবস্থায় গমেজকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টার দিকে তিনি মারা যান।

রমনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. উজ্জল জানান, কাকরাইল সুগন্ধা মোড়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় মোটরসাইকেলের ধাক্কা লেগে গুরুতর আহত হন যোসেফ গমেজ নামে ওই ব্যক্তি। মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীও সামান্য আহত হন। খবর পেয়ে তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

তিনি জানান, এ ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক রেদওয়ান (২০) ও আরোহী জুনায়েদ হোসেন শাহেলকে (২০) চিকিৎসা শেষে আটক করা হয়েছে। মরদেহটি মর্গে রাখা হয়েছে। নিহত যোসেফ গমেজের বড় ভাই জনি গমেজ জানান, তাদের বাড়ি ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার মোলাশীকান্দা গ্রামে। যোসেফ স্ত্রী এবং দুই মেয়েকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া থাকেন। কিছু দিন আগে দেশে আসলেও আবার সেখানে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল তার। রাতে পুলিশের মাধ্যমে তারা খবর পান, কাকরাইলে মোটরসাইকেল ধাক্কায় আহত হয়েছেন ছোট ভাই যোসেফ। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে মৃত অবস্থায় দেখতে পান ভাইকে।
প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে দেশের অর্থনীতিতে গতি

প্রণোদনা বৃদ্ধিতে প্রবাসী আয়ের পালে হাওয়া লেগেছে। অক্টোবর শেষে প্রবাসী আয় এসেছে ১৯৭ কোটি ৭৫ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২১ হাজার ৮৫২ কোটি টাকার বেশি (প্রতি ডলার ১১০ টাকা ৫০ পয়সা ধরে)। প্রতিদিন এসেছে প্রায় ছয় কোটি ৩৯ লাখ ডলার বা ৭০৫ কোটি টাকা।

বুধবার (১ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের হাল নাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে শেষ ৪১ মাসের সর্বনিম্ন ১৩৩ কোটি ৪৩ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার প্রবাসী আয় আসে। ডলারে দাম বাড়ানোর পাশাপাশি প্রণোদনা বৃদ্ধির এক মাসের ব্যবধানে ৬৪ কোটি ৩২ লাখ ১০ হাজার ডলার বা ৫১ হাজার ৩০৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা বেড়ে গেছে। যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে বেশি। ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে প্রবাসী আয় এসেছিল ১৫২ কোটি ৫৫ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার।

অক্টোবর মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের ৬ বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১৫ কোটি ৪৪ লাখ ৭০ হাজার ডলার। বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে আসে ৫ কোটি ৮২ লাখ ডলার। সব বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে আসে ১৭৫ কোটি ৮৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে আসে ৬০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার।

যখন সরকার ডলার সংকটে হিমসিম খাচ্ছে, রিজার্ভে টান পড়েছে- সে সময়ে ডলার ও প্রবাসে আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস প্রবাসী আয়ের ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে কয়েক দফায় প্রবাসী আয়ের ডলারের মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রণোদনা বাড়িয়েছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার ডলারের দাম ৫০ পয়সা বাড়িয়ে ১১০ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়েছে। গত সপ্তাহে প্রবাসী আয়ে সরকারের ২ দশমিক ৫০ শতাংশ প্রণোদনার পাশাপাশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার অনুমতি দেয়। এর ফলে প্রবাসী আয়ের ১ ডলারের বিপরীতে প্রায় ১১৬ টাকা পাচ্ছে।

সাধারণত হুন্ডির মাধ্যমে আসায় কয়েক মাস ধরে প্রবাসী আয় আশঙ্কজনকভাবে কমে যায়। বিষয়টি সরকারের নীতি নির্ধারক মহলের তাগাদায় জরুরি বৈঠকে বসে বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) ও অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)। সিদ্ধান্তে প্রবাসী আয়ের ডলারের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি প্রণোদনা বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা। আর এতেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে প্রবাসী আয়।

আগামীতে প্রবাসী আয়ের এ ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশের জন্য সকল ভিসা বন্ধ করলো ওমান

অনির্দিষ্টকালের জন্য বাংলাদেশিদের জন্য সব ধরণের ভিসা বন্ধ করেছে ওমান। মঙ্গলবার দেশটির রয়্যাল ওমান পুলিশের বরাত দিয়ে ওমান অবজারভার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এক বিবৃতিতে রয়্যাল ওমান পুলিশ জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত মঙ্গলবার থেকেই কার্যকর হবে।

বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সকল দেশের নাগরিকের জন্য ভিসা পরিবর্তন সেবা বন্ধ থাকবে। আর বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব ক্যাটাগরির ভিসাই অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।

এক্ষেত্রে ভিসা নবায়নের সেবা কার্যক্রম আগের নিয়মেই চালু থাকবে, তবে ভিসা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পূর্বের মত ওমানে থেকেই এই সুবিধা নেয়া যাবেনা। কেউ ভিসা পরিবর্তন করতে চাইলে তাকে দেশে ফিরে পুনরায় নতুন ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। তবে বাংলাদেশিরা আপাতত নতুন ভিসার আবেদন করতে পারবেন না।

Scroll to Top