৮ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১০:০২

রাজনীতি

ছাত্রদল বিএনপির অবরোধের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল

বিএনপির ডাকা দেশব্যাপী চতুর্থ দফার ৪৮ ঘণ্টা অবরোধের প্রথম দিনে আজ রোববার (১২ নভেম্বর) রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এদিন দুপুর ১২টার দিকে নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে বিজয়নগর পানির ট্যাংকি পর্যন্ত এই মিছিল হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল।

এ ছাড়া মিছিলে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মারুফ এলাহী রনি, শ্যামল মালুম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশিক রহমান, শাহজাহান শাওন, সহসাধারণ সম্পাদাক কাজী সামসুল হুদা সুজন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক কাজী শামসুল হুদা, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক শরীফ প্রধান শুভ, ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদিকা মানসুরা আলম, ঢাকা জেলা উত্তরের সাবেক সদস্য সচিব সজিব রায়হান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম সম্পাদক তারেক হাসান মামুন, আমান উল্লাহ আমান, নূর আলম ভূঁইয়া ইমন, বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের সহসভাপতি আলমগীর হোসেন আলম, পল্লীকবি জসিমউদদীন হল ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবিদুল ইসলাম খান, প্রচার সম্পাদক (যুগ্ম সম্পাদক পদমর্যাদা) তানভীর বারী হামীম, কর্মী সিফাত ইবনে আমিন, তিতুমীর কলেজ শাখার সহসভাপতি সালেহ আহমেদ বাপ্পি, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইফুল ইসলাম, সহসাধারণ সম্পাদক আবদুল হামিদ, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মনোয়ার হোসেন বিশাল, সহসম্পাদক স্বাধীন আহমেদ, আক্কাসুুর রহমান আঁখি, তিতুমীর কলেজ শাখার সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান, ঢাকা কলেজের সহসভাপতি সাহাবুদ্দিন ইমন, আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস, হল শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক নাদিম খান, সদস্য ইসতিয়াক ইমন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হাসান নাঈম, সহসাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরে মাওলা সিজান চৌধুরী, ইস্ট-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত ইবনে আলী, ইনডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইমরান হোসেন এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেতা মো. রবিউল ইসলাম, ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সজিব, শহীদুল, মহানগর উত্তর ছাত্রদলের হাতিরঝিল থানার যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল, বাড্ডা থানার যুগ্ম আহ্বায়ক ইসমাইল প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ব্যালট ছাড়া ইসির সব প্রস্তুতিই শেষ

বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচনে অনড় আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের একদফা দাবিতে হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি নিয়ে মাঠে রয়েছে বিএনপি ও তাদের মিত্ররা। দেশের বড় দুই রাজনৈতিক দল ও জোটের বিপরীতমুখী এমন অবস্থানের মধ্যেই নির্বাচনের সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। এখন শুধু তপশিল ও ব্যালটের অপেক্ষা। এর আগে রেওয়াজ অনুযায়ী আগামী ৯ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করবে কাজী হাবিবুল আউয়াল কমিশন।

জানা গেছে, আগামী বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তার আগে এ মাসের মাঝামাঝি সময়ে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণের মধ্য দিয়ে ভোটের তপশিল ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। এরই মধ্যে তপশিল ও ভোটের প্রায় সব প্রস্তুতিই সেরে নিয়েছে কমিশন। শুধু ব্যালট ছাপানোই এখন বাকি রয়েছে, যাকে ভোটের সর্বশেষ ধাপ বলা হয়ে থাকে। এটি সাধারণত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমার পরই ছাপানো হয়ে থাকে। সর্বশেষ গত শনিবার নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে ডেকে প্রজেক্টরের মাধ্যমে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়। ৪৪টি দলের মধ্যে ইসির ডাকে সারা দেয় ২৬টি দল।

জাতীয় নির্বাচন আয়োজনকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় বৈঠক, মতবিনিময়, কর্মশালাসহ নানা কর্মসূচিতে ব্যস্ত রয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে অন্য কমিশনাররা। গতকাল সোমবারও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কক্ষে অনানুষ্ঠানিক সভা করে কমিশন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত সময় পার করছেন ইসি সচিবালয়ের

কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। এরই মধ্যে নির্বাচনী প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শেষ হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং নির্বাচনী কর্মকর্তাদের। বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারদের (এসপি) প্রথম দফার প্রশিক্ষণ এরই মধ্যে শেষ। আগামী শুক্র ও শনিবার হবে দ্বিতীয় দফার প্রশিক্ষণ। নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় মালপত্র কেনাকাটার কাজও শেষ। ব্যালট বাক্সসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। এরই মধ্যে ঢাকা বিভাগের সব জেলায় পুলিশি নিরাপত্তায় এসব পাঠানো হয়েছে।

ইসির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার জন্য ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যেই নির্বাচন করতে হবে। ১ নভেম্বর থেকে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের ক্ষণগননাও শুরু হয়ে গেছে। তপশিল ঘোষণার জন্য ইসির হাতে খুব বেশি সময় বাকি নেই। এ অবস্থায় আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে দেশের দুই বড় রাজনৈতিক দলের মধ্যে এখনো কোনো ধরনের সমঝোতার সম্ভাবনা দেখা না গেলেও শেষ পর্যন্ত সংবিধানের পথেই হাঁটবে আউয়াল কমিশন। সেক্ষেত্রে কোনো দল নির্বাচনে না এলেও তাদের কোনো কিছু করার থাকবে না। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ভোটার সংখ্যা ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৩৩ জন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা মিলিয়ে ১০-১২ লাখের মতো জনবল বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।

সিইসিসহ অন্য কমিশনাররা এরই মধ্যে তাদের সাংবিধানিক দায়িত্বের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। সর্বশেষ গত শনিবার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বর্তমান পরিস্থিতি নির্বাচনের সম্পূর্ণ অনুকূল না হলেও কিছু করার নেই বলে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন সিইসি। বলেন, চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে কমিশনের সামর্থ্য ও ম্যান্ডেট কোনোটাই কমিশনের নেই। দলগুলোকেই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সংকট সমাধানের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। নির্বাচনের পরিস্থিতি সব সময় শতভাগ অনুকূলে থাকে না। তবু সাংবিধানিক দায়িত্ব ও শপথের কারণে কমিশনকে ভোটের আয়োজন করতে হবে।

এর আগে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেছিলেন, সংবিধান অনুযায়ী আগামী বছরের জানুয়ারির ২৯ তারিখের মধ্যে যেভাবেই হোক না কেন নির্বাচন হতে হবে। তা না হলে একটি সাংবিধানিক গ্যাপ (শূন্যতা) তৈরি হবে। সেই গ্যাপ তৈরি হলে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি হবে। সেটি নির্বাচন কমিশন হতে দিতে পারে না।

ইসি ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, প্রস্তুতি হিসেবে এরই মধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। আইনি কাঠামোর সংস্কারও হয়েছে। যদিও এতে ইসির ক্ষমতা বাড়া বা কমা নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংসদীয় আসনের পুনর্বিন্যাসের কাজ শেষ। নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার ১০টি আসনের সীমানায় পরিবর্তন এসেছে। নতুন দলের নিবন্ধন এবং নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নিরীক্ষার কাজ শেষ হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকাও প্রকাশিত হয়েছে। এবার ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ১০৩টি আর ভোটকক্ষের সংখ্যা ২ লাখ ৬১ হাজার ৯১৪টি। তবে ভোট-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণসহ আরও কিছু কাজ চলমান রয়েছে। তপশিল ঘোষণার পর ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা, আসন অনুযায়ী ভোটার তালিকার সিডি প্রস্তুত ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ঠিক করার কাজ চলছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে পর্যবেক্ষক নিবন্ধনের প্রাথমিক ধাপ শেষ। দ্বিতীয় ধাপে আরও কিছু পর্যবেক্ষক সংস্থাকে নিবন্ধন দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। চূড়ান্ত হয়েছে বিদেশি পর্যবেক্ষণ নীতিমালাও। একই সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহে মোটরসাইকেলের অনুমতি দিয়ে সাংবাদিক নীতিমালাও সংশোধন করা হয়েছে।

সাধারণত নির্বাচনী কাজের জন্য প্রায় ১১ ধরনের সামগ্রীর প্রয়োজন পড়ে। এর মধ্যে ব্যালট পেপার, স্ট্যাম্প প্যাড, লাল গালা, মনোনয়ন ফরম, অফিসিয়াল সিল, মার্কিং সিল, ব্রাশ সিল, অমোচনীয় কালির কলম, গানি ব্যাগ, হেসিয়ান ব্যাগ (বড়), হেসিয়ান ব্যাগ (ছোট) ও স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের লক রয়েছে। এরই মধ্যে ব্যালট বাক্স, বাক্সের ঢাকনা, বিভিন্ন ধরনের সিল, কালি ও ব্যাগ কেনার কাজ হয়ে গেছে। এবার ব্যালট বাক্স ও ঢাকনা দেশীয় প্রতিষ্ঠান থেকেই কিনেছে ইসি। ১ লাখ ৬১ হাজার রিম বা ৩২ লাখ ২০ হাজার দিস্তা কাগজ কেনা হয়েছে। এসব কাগজ দিয়ে তৈরি হবে ব্যালট পেপার, বিভিন্ন ধরনের খাম ও প্যাড। নির্বাচনের জন্য মোট ৮০ হাজার ব্যালট বাক্স কেনা হয়েছে যা এরই মধ্যে মাঠ পর্যায়ে পাঠানো হচ্ছে। আর তপশিল ঘোষণার পর ব্যালট পেপারের কাগজ সংগ্রহ ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর হবে মুদ্রণের কাজ।

নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে সম্প্রতি সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে ইসি। সেখানে নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি সম্ভাব্য ব্যয়ের হিসাবও তুলে ধরা হয়। এবার প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং পোলিং কর্মকর্তাদের দুই দিনের সম্মানী ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগে নির্বাচনে এক দিনের ভাতা দেওয়া হতো। পাশাপাশি জ্বালানি খরচও এবার বাড়বে। নির্বাচনী দায়িত্বে থাকবেন ৯ লাখের বেশি সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা। নির্বাচনী সরঞ্জাম কেনাকাটা, নির্বাচনে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের ভাতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ভাতা মিলিয়ে এবার প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা খরচ হবে। এর বাইরে নির্বাচনী প্রশিক্ষণে খরচ হবে ১০০ কোটি টাকার বেশি। যদিও প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ছিলেন মোট ৬ লাখ ৮ হাজার সদস্য। নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে ভোটকেন্দ্রে থাকেন পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। ভোটকেন্দ্রের বাইরে থাকে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ডের মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স। নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হলে মোট খরচ আরও বাড়বে। সশস্ত্র বাহিনীকে সাধারণত মোতায়েন করা হয় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে। তবে এবার সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। সেজন্য এ খাতে ব্যয়ও এখন পর্যন্ত ধরা হয়নি।

এবার প্রার্থীদের মনোয়নপত্র দাখিলে বাধাদান ঠেকাতে অনলাইনে জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হচ্ছে। সেইসঙ্গে ই-ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অনলাইনে জামানতের টাকাও পরিশোধের সুযোগও থাকছে। ভোটকেন্দ্রের নাম ও ভোটার নম্বর খুঁজে পাওয়ার ভোগান্তি কমাতে ‘বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যাপ’ নামে একটি অ্যাপ তৈরি করছে কমিশন। এই অ্যাপে ভোটারের তথ্যের পাশাপাশি রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, ডিসি, এসপি, ওসিসহ নির্বাচনের দায়িত্বপালনকারী কর্মকর্তাদের পরিচয়, ফোন নম্বর থাকবে।

ভোটের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ সম্প্রতি কালবেলাকে বলেন, দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ এবং সেটি সন্তোষজনক।

নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (ইটিআই) মহাপরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান বলেন, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সেপ্টেম্বরে শুরু হয়েছে প্রশিক্ষণের কাজ। ভোটের এক সপ্তাহ আগ পর্যন্ত ১০ লাখের মতো ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ ছাড়া মাঠ প্রশাসনকেও প্রশিক্ষণের আওতায় এনেছে ইটিআই। এরই মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। শুক্র ও শনিবার বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও জেলা নির্বাচনী কর্মকর্তাদের দ্বিতীয় ধাপের প্রশিক্ষণ হবে।

রাজধানীতে বাসে আগুন

রাজধানীর ডেমরায় আসমানি পরিবহন নামে একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়েছেন দুর্বৃত্তরা। সোমবার (৬ নভেম্বর) রাত ২টার দিকে হাজীনগর পুরাতন ৫তলা ভবনের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, আগুন লেগে বাসের বেশ কয়েকটি সিট পুড়ে গেছে। তবে ঘটনাস্থলের পাশে একটি অভ্যন্তরীণ পানি নিষ্কাশন খাল থাকায় বাসটিতে আগুন লাগার পরপরই চালকসহ পথচারীরা দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়।

খবর পেয়ে ডেমরা থানা পুলিশ পুড়ে যাওয়া ওই বাসটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ডেমরা থানার ওসি (তদন্ত) মো. ফারুক মোল্লা বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে নাশকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিএনপি—জামায়াতের দুষ্কৃতকারীরা বাসে আগুন দিয়েছে। তাদের এ রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে বাস কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে যথাযোগ্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গুলিস্তানে সতর্ক অবস্থানে আ.লীগ

বিএনপি-জামায়াতের ডাকা অবরোধে নৈরাজ্যে ঠেকাতে রাজধানীর গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

রোববার (৫ নভেম্বর) সকাল ৯টার পর একে একে নেতারা আসতে শুরু করেন। সকাল সাড়ে ১০টায় জড়ো হয়ে কার্যালয়ের সামনে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন তারা।

নেতাকর্মীরা জানান, বিএনপি নাশকতার নামে নির্বাচন বানচাল করতে চায়। জনগণের জানমালের ক্ষতি করতে চায়। তারা দেশকে একটি অস্থিতিশীল অবস্থায় নিয়ে যেতে চায়। জনগণের জানমাল রক্ষায় তাদের এই সহিংসতার বিরুদ্ধে আমরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি, সতর্ক পাহারায় আছি। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে যুবলীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ আলাদাভাবে অবস্থান নিয়েছে।

উল্লেখ্য, সরকারের পদত্যাগের একদফা দাবিতে এবং মির্জা ফখরুলসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের মুক্তির দাবিতে রোববার সকাল থেকে ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। তাদের শরিকরাও এই অবরোধ পালন করবে। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীও আলাদা করে এই ৪৮ ঘণ্টা অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহের শেষ তিন দিন (৩১ অক্টোবর-২ নভেম্বর) টানা অবরোধ পালন করে বিএনপি-জামায়াত। তার আগে ২৯ অক্টোবর হরতাল পালন করে বিএনপি ও এর শরিকরা।

ঢাবির বিভিন্ন ফটকে ছাত্রদলের তালা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফটকে তালা লাগিয়েছে ছাত্রদল। ঢাবি ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক আনিসুর রহমান খন্দকার অনিকের নেতৃত্বে রোববার (৫ নভেম্বর) সকালে কার্জন হল, শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্র ও সায়েন্স লাইব্রেরির প্রধান ফটকে তালা দেওয়া হয়। এসব ফটকে ব্যানারও সাঁটানো হয়েছে। ব্যানারে লেখা রয়েছে, ‘রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ চলছে, সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখিত’, ‘এক দফা দাবিতে সর্বাত্মক অবরোধ চলছে’।

এ বিষয়ে আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক কালবেলাকে বলেন, ‘অবরোধের সমর্থনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আমার নেতৃত্বে ব্যানার সাঁটিয়েছেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কটকে তালা মেরে দেওয়া হয়েছে।’

২৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও ১০ প্লাটুন প্রস্তুত
বিএনপি-জামায়াতের দ্বিতীয় দফায় ডাকা টানা ৪৮ ঘণ্টার অবরোধে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও স্ট্যান্ডবাই রয়েছে আরও ১০ প্লাটুন।

রোববার (৫ নভেম্বর) বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম। তিনি জানান, রোববার অবরোধের প্রথম দিন সকাল থেকে তাদের মোতায়েন করা হয়। এ ছাড়া স্ট্যান্ডবাই রয়েছে আরও ১০ প্লাটুন। ঢাকার পাশাপাশি তাদের সাভার ও গাজীপুর এলাকায় টহল দিতে দেখা গেছে।

এর আগে বিএনপি-জামায়াতের টানা তিন দিনের অবরোধেও বিজিবি ও বিজিবির বিশেষায়িত বিজিবি-র‌্যাপিড অ্যাকশন টিমের (র‍্যাট) সদস্যদের টহল দিতে দেখা গিয়েছিল। এদিকে শনিবার সন্ধ্যা থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত সাড়ে ১১ ঘণ্টায় ৯টি বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম রোববার সকালে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘শনিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রোববার সকাল ৬.৩০ পর্যন্ত ১২টি উচ্ছৃঙ্খল জনতা কর্তৃক আগুনের সংবাদ পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ঢাকা সিটিতে সাতটি, ঢাকা বিভাগে (নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর) দুটি, রাজশাহী বিভাগে (সিরাজগঞ্জ) একটি, বরিশালে (চরফ্যাশন) একটি, রংপুরে (পীরগঞ্জ) একটি ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৯টি (১০টি) বাস, একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয় পুড়ে যায়।’

ফায়ার সার্ভিস জানায়, রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকার গাউছিয়া মার্কেটের সামনে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মিরপুর লিংক নামের বাসে আগুন দেওয়া হয়। সন্ধ্যা সাতটা ৩৫ মিনিটে এলিফ্যান্ট রোডে গ্রিন ইউনিভার্সিটির বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া সন্ধ্যা সাতটা ৫৫ মিনিটে সায়েদাবাদের জনপথ মোড়ে রাইদা পরিবহনের বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

বাহিনীটি জানায়, রাত ১০টার দিকে গুলিস্তানের পাতাল মার্কেটের সামনে মনজিল পরিবহনের বাসে আগুন লাগানো হয়।

ঢাকার বাইরের আগুনের ঘটনাগুলো নিয়ে ফায়ার সার্ভিস জানায়, রাত ১১টা ৪২ মিনিটে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় অনাবিল পরিবহনের বাসে আগুন দেওয়া হয়। রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে ভোলার চরফ্যাশনের নতুন বাস স্ট্যান্ডে যমুনা এক্সপ্রেস নামে বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।

গভীর রাতে ২টা ৫৫ মিনিটে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের বাদলপুরে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়। রাত তিনটা ৫২ মিনিটে রংপুরের পীরগঞ্জের তিন রাস্তার মোড়ে গাড়ির পরিত্যক্ত টায়ারে আগুন দেওয়া হয়।

এদিকে রোববার ভোররাত চারটায় ঢাকার মাতুয়াইলের সাদ্দাম মার্কেটে বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। একই সময়ে জুরাইনের বালুর মাঠ এলাকায় তুরাগ পরিবহনের বাসে আগুনের ঘটনা ঘটে।

ভোররাত পাঁচটা ১৭ মিনিটে ঢাকার মিরপুর ৬ নম্বরে বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। সকাল ৬টা ২৪ মিনিটে গাজীপুরের ভোগরায় বাসে আগুনের ঘটনা ঘটে।

সংঘাত ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রাজনীতি

দেশের রাজনীতি সংঘাতে ঢুকে পড়েছে। নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার, রিমান্ডের মুখে অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে বিএনপি। সরকারও কঠোর থেকে আরও কঠোর হচ্ছে। দুই পক্ষ এখন সংলাপ ও সমঝোতার বা কোনো ছাড় দেওয়ার মানসিকতায় নেই। জাতীয় নির্বাচনও ঘনিয়ে আসছে। তবে রাজনীতিতে সংঘাত, অনিশ্চয়তা বাড়ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন।

নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়ে বিরোধ থেকে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছিল। এই উত্তেজনার পর গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে ঘটেছে সহিংসতা, প্রাণহানি। এমন পরিস্থিতির জন্য একে অপরকে দায়ী করেছে বিএনপি ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

তবে পরদিনই বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা থেকে শুরু করে মাঠের নেতাদের একের পর এক গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এমনকি জ্যেষ্ঠ নেতাদের রিমান্ডেও নেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতির মুখে বিরোধী দল হরতালের পর অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগপর্যন্ত বিএনপির নেতা–কর্মীদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রাখবে সরকার। একাধিক মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে এমন ধারণা পাওয়া গেছে। তাঁদের যুক্তি হচ্ছে, ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় প্রাণহানি ঘটেছে। সে কারণে ঘটনার ব্যাপারে মামলায় এসব গ্রেপ্তার হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপি সহিংসতার পথে নেমেছে। ফলে সহিংস ঘটনার ব্যাপারে সরকারকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে। নির্বাচন পর্যন্ত সহিংসতার বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান থাকবে।

কিন্তু ক্ষমতাসীনদের কেউ কেউ বলছেন, মহাসমাবেশ পণ্ড হওয়ার পর নেতাদের গ্রেপ্তার করে বিএনপিকে চাপে ফেলা বা কোণঠাসা করা তাদের অন্যতম লক্ষ্য। সরকার যখন কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা বলছে, তখন অবরোধের মতো কর্মসূচি অব্যাহত রেখে বিএনপিও বলছে, এ ধরনের কর্মসূচি দেওয়া ছাড়া তাদের সামনে বিকল্প নেই।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রথম আলোকে বলেন, সরকার বিরোধী দলের নেতা–কর্মীদের গ্রেপ্তার, রিমান্ডে নেওয়াসহ দমন–নিপীড়ন বাড়িয়ে দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেই সংঘাত সৃষ্টি করা হচ্ছে। ক্ষমতাসীনদের এমন আচরণের মুখে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া ছাড়া তাঁদের পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই।

বিশ্লেষকেরা মনে করেন, রাজনীতি এখন সংঘাতময় হয়ে উঠেছে। মহাসমাবেশের পরও অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘাত হচ্ছে। যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটছে। যদিও কোনো পক্ষই এসব ঘটনার দায় নিচ্ছে না। তবে অনিশ্চয়তা থেকেই পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক এম সাখাওয়াত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাজনীতিতে সংঘাত, উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা বেড়েই চলেছে। দুই পক্ষের কেউই তা উপলব্ধি করছে না।’

সংলাপ–সমঝোতার মানসিকতায় নেই কোনো পক্ষ

টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ তাদের অধীনেই নির্বাচন করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে। আর বিএনপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় সরকার ছাড়া নির্বাচন না করার অবস্থানে অটল রয়েছে। দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের মুখে রাজনীতি এখন সংঘাত ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। কিন্তু কোনো পক্ষ থেকেই ছাড় দেওয়ার কোনো লক্ষণ নেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, বিপরীতমুখী অবস্থানে থাকা দুই দল কোনো চাপে না পড়লে নিজেরা আলোচনায় বসে সমাধান করতে পারবে, তাদের সেই মানসিকতা নেই। তারা সে ধরনের পরিস্থিতিও রাখেনি। এ ছাড়া সংঘাত ও অনিশ্চয়তার ব্যাপারে দুই দল কতটা উপলব্ধি করছে, এ নিয়েও সন্দেহ রয়েছে বিশ্লেষকদের।

অন্যদিকে অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর তৎপরতা রয়েছে। ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস কয়েক দিন আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের কাছে বলেছিলেন, শর্তহীনভাবে সব পক্ষ সংলাপে বসে সমাধান করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন মহল থেকে আলোচনা–সমঝোতার কথা বলা হচ্ছে। দুই দল তা আমলে নিচ্ছে না বলে মনে হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ বলে আসছে, তাদের সরকারের অধীনে নির্বাচন করার ব্যাপারে বিএনপি রাজি হলে তখন সংলাপ হতে পারে। ক্ষমতাসীনেরা এখন বিএনপির মহাসমাবেশকে ঘিরে সহিংসতার বিষয়কেও তুলে ধরে সংলাপের সম্ভাবনা নাকচ করছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও গত বৃহস্পতিবার সংসদে বক্তব্যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের সংলাপের সম্ভাবনা আবারও নাকচ করে দিয়েছেন।

বিএনপি নেতারা বলছেন, সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকেও সংলাপ নিয়ে যে বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, তাতে সরকার আবারও একতরফা নির্বাচন করতে চাইছে বলে তাঁরা মনে করছেন। তবে বিএনপিও নির্দলীয় সরকারের দাবির ব্যাপারে সরকার একমত না হওয়া পর্যন্ত কোনো সংলাপে যেতে রাজি নয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, দুই পক্ষের তিক্ততা, উত্তেজনার রাজনীতি যে সংঘাতে গড়িয়েছে, তাতে দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের ওপরই নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সাবেক নির্বাচন কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সরকারের দিক থেকেই নমনীয় হয়ে সংকটের সমাধান করা প্রয়োজন। কিন্তু সরকার যখন নিষ্ঠুরতা দেখাচ্ছে, তখন অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।

যুবদল নেতাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে গেল দুর্বৃত্তরা

নাটোরে সড়ক থেকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে মাসুদ রানা (৩৫) নামের এক যুবদল নেতাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ১০ কিলোমিটার দূরে ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায় নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত মাসুদ রানা বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মাসুদ রানা লালপুরের বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের নাগসোশা গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে। তিনি বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক। বিলমাড়িয়া বাজারে তাঁর প্রসাধনীর দোকান রয়েছে।

ঘটনাস্থলের আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাসুদ রানা বিলমাড়িয়া বাজারে নিজের দোকান বন্ধ করে অন্য একজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে নাগসোশা গ্রামে নিজ বাড়িতে যাচ্ছিলেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাজারের পশ্চিম পাশের সড়কে একটি মাইক্রোবাস দাঁড়িয়ে ছিল। তিনি ওই মাইক্রোবাসের কাছাকাছি পৌঁছালে ছয় থেকে সাতজন লোক নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাঁকে থানায় যাওয়ার জন্য মাইক্রোবাসে উঠতে বলেন। কারণ, জানতে চাইলে তাঁরা তাঁকে জোর করে মাইক্রোবাসে উঠিয়ে চোখ-মুখ বেঁধে ফেলেন। প্রায় ঘণ্টাখানেক পর তাঁকে মাইক্রোবাস থেকে নামিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন। এ সময় তাঁর ডান পা ও ডান হাতের নিচের অংশ কুপিয়ে রগ কেটে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। তাঁর মাথায়ও একটা ফোলা জখম রয়েছে। পরে তাঁকে সেখানে ফেলে রেখে মাইক্রোবাসটি চলে যায়।

পথচারীরা মাসুদ রানাকে পড়ে থাকতে দেখে তাঁর পকেটে থাকা মুঠোফোন থেকে স্ত্রীর নম্বর সংগ্রহ করে ফোন দিয়ে ঘটনাটি জানান। তখন তিনি ও তাঁর পরিবারের লোকজন জানতে পারেন মাসুদ রানাকে অপহরণের স্থান থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে গোপালপুর মহিলা কলেজের পাশে ফেলে রাখা হয়েছে। তখন পরিবারের লোকজন সেখানে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে এবং লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গতকাল রাতে দায়িত্বে ছিলেন চিকিৎসা কর্মকর্তা খোরশেদ আলম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মাসুদ রানার ডান পায়ের হাঁটুর নিচে ও ডান হাতে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। মাথাতেও আঘাত ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মাসুদ রানার সঙ্গে সালাহ উদ্দিন নামের এক স্বজন অবস্থান করছেন। তিনি মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, মাসুদ রানা সক্রিয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দুর্বৃত্তরা তাঁর হাত–পায়ের রগ কাটলেও কাছে থাকা টাকাপয়সা নেয়নি। রাজনৈতিক কারণে তাঁকে আঘাত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজ্জ্বল হোসেন বলেন, পুলিশের কেউ এ ঘটনা ঘটায়নি। কারা ঘটিয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হবে। তবে এ ব্যাপারে আজ শনিবার সকাল পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি।

তিন দিনের অবরোধের প্রথম দিন আজ লক্ষ্মীপুর জেলার কয়েটি স্থনে সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন অবরোধকারীরা। আজ সকালে লক্ষ্মীপুর-রামগতি সড়কেছবি -সংগৃহীত
বিএনপি-জামায়াতের ডাকা টানা তিন দিনের অবরোধের প্রথম দিন আজ মঙ্গলবার লক্ষ্মীপুর জেলার কয়েটি স্থানে সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে অবরোধকারীরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তারা সটকে পড়ে। এ সময় পুলিশ সড়ক থেকে প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে দেয়।

এদিকে জেলার বিভিন্ন স্থানে গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে ও আজ অভিযান চালিয়ে ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বিএনপি নেতা–কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর পুলিশের অবস্থান। আজ বেলা ১১টায় কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতি বাসস্ট্যান্ড এলাকায়

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতা–কর্মীদের সংঘর্ষে একজনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে পুলিশ। তবে বিএনপির দাবি, পুলিশের গুলিতে তাঁদের দুজন নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার সকাল আটটার দিকে উপজেলার ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের ছয়সূতি বাসস্ট্যান্ডে এই ঘটনায় দুই পক্ষের অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল মিল্লাত বলেন, ‘আমাদের মিছিল ছিল খুবই শান্তিপূর্ণ। শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ নির্বিচার গুলি ছোড়ে। পুলিশের গুলিতে রিফাত ও বিল্লাল নামে আমাদের দুইজন নেতা মারা যান।’

Scroll to Top